সুরা যিলযাল পবিত্র কোরআনের ৯৯ নম্বর সুরা। এটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর আয়াত সংখ্যা আট। আর আরবি ভাষায়, ভূমিকম্পকে ‘যালযালাহ’ বলা হয়।

৩ মিনিটে পড়ুন

সুরা যিলযাল

اِذَا زُلۡزِلَتِ الۡاَرۡضُ زِلۡزَالَہَا ۙ ١ وَاَخۡرَجَتِ الۡاَرۡضُ اَثۡقَالَہَا ۙ ٢ وَقَالَ الۡاِنۡسَانُ مَا لَہَا ۚ ٣ یَوۡمَئِذٍ تُحَدِّثُ اَخۡبَارَہَا ۙ ٤ بِاَنَّ رَبَّکَ اَوۡحٰی لَہَا ؕ ٥ یَوۡمَئِذٍ یَّصۡدُرُ النَّاسُ اَشۡتَاتًا ۬ۙ  لِّیُرَوۡا اَعۡمَالَہُمۡ ؕ ٦ فَمَنۡ یَّعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّۃٍ خَیۡرًا یَّرَہٗ ؕ ٧ وَمَنۡ یَّعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّۃٍ شَرًّا یَّرَہٗ  

উচ্চারণ : ১. ইযা-ঝুলঝিলাতিল আরদুঝিলঝা-লাহা। ২. ওয়া আখরাজাতিল আরদুআছকা-লাহা। ৩. ওয়া কা-লাল ইনছানু-মা-লাহা। ৪. ইয়াওমাইযিন তুহাদ্দিছু আখবা-রাহা। ৫. বিআন্না রাব্বাকা আওহা-লাহা। ৬. ইয়াওমা-ইযিইঁ ইয়াসদুরুন্নাছু-আশতা-তাল লিউউ-রাও আ‘মা-লাহুম। ৭. ফামাইঁ ইয়া‘মাল মিছকা-লা যাররাতিন খাইরাইঁ ইয়ারাহ। ৮. ওয়া মাইঁ ইয়া‘মাল মিছকা-লা যাররাতিন শাররাইঁ ইয়ারাহ।

অর্থ : যখন পৃথিবীকে আপন কম্পনে ঝাঁকিয়ে দেওয়া হবে। এবং ভূমি তার ভার বের করে দেবে, এবং মানুষ বলবে, তার কী হল?,সেদিন পৃথিবী তার যাবতীয় সংবাদ জানিয়ে দেবে। কেননা তোমার প্রতিপালক তাকে সেই আদেশই করবেন। সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে, কারণ তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হবে। সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করে থাকলে সে তা দেখতে পাবে। এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করে থাকলে তাও দেখতে পাবে। ( সুরা যিলযাল, আয়াত : ১-৮)

এ সুরার প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, কেয়ামতের আগে যখন শিঙ্কায় ফুঁৎকার দেয়া হবে তখন ভূমিকম্পের কারণে পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠবে। আর সবকিছু চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। এ অবস্থা তখন হবে, যখন শিঙ্গায় প্রথমবার ফুঁৎকার দেয়া হবে।

আরও পড়ুন: ভূমিকম্প হলে যে দোয়া ও আমল করবেন

পরের আয়াতে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ফুঁৎকারের পরে মাটির নিচে যত মানুষ দাফন আছে, তাদেরকে এবং খনিজ পদার্থ ও গুপ্ত ধনগুলোকে জমিন বাইরে বের করে এনে ফেলে দেবে এবং যাবতীয় মৃতকে বের করে হাশরের মাঠের দিকে চালিত করবে।

কোনো কোনো মুফাসসিরের মতে, সোনা, রুপা, হীরা, মণি-মাণিক্য এবং অন্যান্য যেসব মূল্যবান সম্পদ ভূ-গর্ভে সঞ্চিত রয়েছে সেগুলোর বিশাল বিশাল স্তূপ সেদিন জমিন উগলে দেবে।

হাদিসে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 

পৃথিবী তার কলিজার টুকরা বিশালাকার স্বর্ণ খণ্ডের আকারে উদগীরণ করে দেবে। তখন যে ব্যক্তি ধনসম্পদের জন্যে কাউকে হত্যা করেছিল, সে তা দেখে বলবে, এর জন্যেই কি আমি এতোবড় অপরাধ করেছিলাম? যে ব্যক্তি অর্থের কারণে আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছিল, সে বলবে, এর জন্যেই কী আমি এ কাণ্ড করেছিলাম? চুরির কারণে যার হাত কাটা হয়েছিল, সে বলবে, এর জন্যেই কী আমি নিজের হাত হারিয়েছিলাম? অতঃপর কেউ এসব স্বর্ণ খণ্ডের প্রতি ভ্ৰক্ষেপও করবে না। (মুসলিম, হাদিস : ১০১৩)

পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে, ফুঁৎকারের পর মানুষ পুনরায় জীবন লাভ করে সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যেক ব্যক্তির প্রথম প্রতিক্রিয়া এমন হবে যে, এসব কী হচ্ছে? এটা যে হাশরের দিন একথা সে পরে বুঝতে পারবে।

আরও পড়ুন: নেছারাবাদ দরবারের মাহফিল শুরু


এর পরবর্তী আয়াত তিলাওয়াত করে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা জানো, পৃথিবীর বৃত্তান্ত কী?’ সাহাবিরা বললেন, আল্লাহ এবং তার রসুলই ভালো জানেন। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তার বৃত্তান্ত এই যে, নারী অথবা পুরুষ এ মাটির উপর যা কিছু করছে এই মাটি তার সাক্ষী দেবে। আর বলবে, অমুক অমুক ব্যক্তি অমুক অমুক দিনে অমুক অমুক কর্ম করেছে। (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ ২/৩৭৪)