চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দহুলিয়া গ্রামের মাদরাসা-ই শাজুলিয়ার দুই ক্ষুদে শিক্ষার্থী অল্প সময়ে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

গত ৮ আগস্ট, মাত্র ৫ মাস ১২ দিনে সবক, সাত সবক ও আমুখতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন কুরআনুল কারীম মুখস্থ সম্পন্ন করে হাফেজে কুরআন উপাধি অর্জন করেছে। একই দিনে তার ফুফাতো ভাই তরিকুল ইসলাম তারেকও হিফজ শেষ করে।

মাত্র দুই বছরেরও কম সময়ে নূরানী, নাজেরা ও হিফজ শেষ করা সাব্বির দৈনিক ৪-৫ পৃষ্ঠা সবক শুনিয়েছে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতায় সবসময় সেরা ফলাফল অর্জন করেছে। উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৪র্থ স্থান ও স্যাটেলাইট চ্যানেলের আয়োজনে ইয়েস কার্ড অর্জন তার অন্যতম সাফল্য। কুরআন তেলাওয়াত, দোয়া, মাসয়ালা, হাদিস ও বক্তৃতাতেও সে সমান পারদর্শী।

অন্যদিকে, ১২ বছর বয়সী তারেকও সমান মনোযোগী ও মেধাবী। বিভিন্ন মাদ্রাসা পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতায় সেও ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

সাব্বির সেঙ্গুয়া গ্রামের কৃষক মো. আব্দুর রহমান ও তাসলিমা বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র। তারেক মুদি ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন ও তাহমিনা আক্তারের বড় সন্তান।

মাদরাসা-ই শাজুলিয়া মারকাজ শাজুলিয়া দরবার শরীফ কর্তৃক পরিচালিত একটি খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ঢাকায় ৫টি শাখা রয়েছে। প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এখানে নূরানী, নাজেরা, হিফজ ও সাধারণ শিক্ষা গ্রহণ করছে। প্রতি বছর গড়ে ১০-১২ জন শিক্ষার্থী কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে পাগড়ি গ্রহণ করে এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আতাউল্লাহ শাজুলী বলেন, “সাব্বির খুবই মেধাবী এবং পরিশ্রমী ছাত্র। আদব-কায়দা থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রেই সে শিক্ষকদের সন্তুষ্টি অর্জন করেছে। আমরা চাই, সাব্বির বিশ্বমানের হাফেজ হিসেবে গড়ে উঠুক এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”

এই সাফল্যে অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয়রা ও মাদ্রাসার উস্তাদগণ আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং তাদের জন্য আন্তরিক দোয়া করেছেন।