
পদ্মা সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং দেশের অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। চালুর পর থেকে টোল আদায়ে ধারাবাহিক সাফল্য দেখাচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় এই সেতু। ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু চালুর ৪৩ মাসে টোল থেকে আয় ছাড়িয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ হাজার যানবাহন পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচল করছে। এর বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা টোল আদায় হচ্ছে। শুধু গত ডিসেম্বর মাসেই টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮২ কোটি টাকা।
মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরাকে সংযুক্তকারী এই সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলের অন্তত ২১টি জেলার মানুষ পদ্মা সেতুর সুবিধা ভোগ করছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, চালুর পর থেকেই যানবাহন চলাচল ও টোল আয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে যাতায়াতের সময় কমেছে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও শিল্পপণ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে—মাওয়া ও জাজিরা টোল প্লাজায় আধুনিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আরএফআইডি কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় হওয়ায় যানবাহনকে আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।
টোল আদায়ের এই ‘মাইলফলক’ অর্জনে যানবাহনের মালিক, চালক, শ্রমিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত সব পক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। ২০০৭ সালে প্রকল্প গ্রহণের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে একাধিক সংশোধনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।
নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে অর্থ মন্ত্রণালয় সেতু কর্তৃপক্ষকে ঋণ হিসেবে অর্থ দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ৩৫ বছরে ১ শতাংশ সুদে ১৪০ কিস্তিতে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, টোল আদায়ের অর্থ থেকে প্রথমে ১৫ শতাংশ ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এরপর টোল আদায়ের ঠিকাদার কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়েকে পাঁচ বছরের জন্য ৬৯৩ কোটি টাকা পরিশোধসহ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ব্যয় মেটানো হয়। এসব ব্যয় বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ থেকেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।