অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নোয়াখালীর ১৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় জেলার বিভিন্ন সড়ক, মহল্লা ও বিদ্যালয় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পানির নিচে ডুবে আছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে এবং পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের আঙিনা ও মাঠে হাঁটুপানি থাকায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে আসতে পারছে না। যারা আসে, তাদের জামাকাপড় ভিজে নষ্ট হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। কিছু বিদ্যালয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হলেও পিচ্ছিল হওয়ার কারণে শিশুরা প্রায়ই পড়ে যাচ্ছে। শিক্ষকরাও দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ে আসতে সমস্যার মুখে পড়ছেন।

অভিভাবকেরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ উঁচু করার পরামর্শ দিয়েছেন। মধ্য করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, মাঠে পানি জমে থাকায় গত মাসে তার অনেক সহপাঠী স্কুলে আসতে পারেনি, খেলাধুলাও বন্ধ হয়ে গেছে। চৌমুহনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে যাতায়াতের পথে জামাকাপড় ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতার কারণে সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না, যা শিক্ষার ক্ষতি করছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরে জলাবদ্ধতার কারণে জেলার সদরের ৯টি, সোনাইমুড়ীর ৩৪টি, কোম্পানীগঞ্জের ১৭টি, বেগমগঞ্জের ৮১টি, সেনবাগের ৯টি, কবিরহাটের ২২টি এবং সুবর্ণচরের ৫টি বিদ্যালয় এখনও পানিতে ডুবে আছে। যদিও বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি, তবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের জন্যই স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাত নাসিমা হাবীব জানান, আশপাশের এলাকায় পানি থাকায় অনেক বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, যা পাঠদানে সমস্যা সৃষ্টি করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নিচু মাঠ ভরাটের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।