
‘আমার ছেলের দোষ কী ছিল? সে শুধু আগ্রাসনবিরোধী লেখালেখি করেছিল।’—এই আবেগঘন কথাই স্মৃতিচারণ করেন শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ। তিনি জানান, আবরার বলেছিল, “আমার রুমের আশেপাশে সবাই ছাত্রলীগের ছেলে। কেউ এলে ওরা আমাকে মারতে দেবে না।”
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সারা দেশের জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একযোগে প্রদর্শিত হয় আবরারের স্মরণে প্রামাণ্যচিত্র ‘ইউ ফেইলড টু কিল আবরার ফাহাদ’।
বরকত উল্লাহ জানান, আবরার দেশের পক্ষে লেখা লিখত, কিন্তু সেই লেখা ওর প্রাণ কেড়ে নেয়। তিনি উদাহরণ দেন—আবরার ফেসবুকে লিখেছিল, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর কলকাতা বন্দর ব্যবহার না পেয়ে বাংলাদেশ গোলাপপোর্ট চালু করে, ফলে ইলিশের সংখ্যা কমে যায়। এছাড়া পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রতি সমালোচনা লিখেছিল। এই লেখাগুলোর কারণে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী এবং তার রুমমেট মিজান মিলে আবরারের ওপর ‘শিবিরের ছেলে’ তকমা দেয়। এই মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে ছুটি শেষে হলে ফিরে আসার পরপরই তাকে রাতভর নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আবরার খুব ভীত ছিল। যদি কেউ বলত “লিখবে না”—তাহলে সে হয়তো কখনও হলে ফিরে যেত না। কিন্তু তাকে শোনানো হয়নি। যারা হত্যার সঙ্গে জড়িত, আল্লাহ তাদের বিচার করেছেন।
বরকত উল্লাহ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মামলাটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। এই বিচার যেন দ্রুত শেষ হয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৯ সালের পর প্রতি বছরই আবরারের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এবারের আয়োজন ছিল প্রথমবার, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সারা দেশে একসঙ্গে।
তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আবরারসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের তালিকা প্রস্তুত করবেন। এই তালিকা দ্রুত প্রকাশিত হোক, এমন আশা প্রকাশ করেন বরকত উল্লাহ। শেষ বক্তব্যে তিনি আবরার ফাহাদসহ জুলাই-আগস্টে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ স্ট্যালিন, নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। প্রামাণ্যচিত্র ‘ইউ ফেইলড টু কিল আবরার ফাহাদ’ও প্রদর্শিত হয়।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।