পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টি—পাখি, পশু, গাছ-পালা—নিজ নিজ নিয়মে চলতে থাকে; কেবল মানুষকে আল্লাহ হেদায়েতের পথে পরিচালনা করতে নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। আদম (আ.)-এর যুগ থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে আল্লাহর দাওয়াত সম্পূর্ণ হয়েছে। মহানবী (সা.)-কে যে ঐশী গ্রন্থ দেওয়া হয়েছে এবং যে জীবনব্যবস্থা উম্মতের জন্য বলা হয়েছে, তা কিয়ামত পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকবে।

ধর্ম মানুষের কল্যাণ ও সভ্যতার উন্নয়নের গাইডলাইন। প্রত্যেক ধর্মের উদ্ভবই মানবকল্যাণের উদ্দেশ্য নিয়ে—জাগতিক সুখ-শান্তি ও পরকালের শান্তি নিশ্চিত করার শিক্ষা দেওয়াই ধর্মের মূল লক্ষ্য। ইসলামি باور অনুযায়ী, আল্লাহ আদম ও হাওয়াকে প্রথমে জান্নাতে রেখেছিলেন; পরে তাদের পৃথিবীতে পাঠানো হয় যেন যারা আল্লাহর ইচ্ছা মেনে চলবে, তাঁরা পরন্তু জান্নাতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে; আর যারা বিপথে যায়, তাদের কঠোর ফল ভোগ করতে হবে।

ধর্ম, ভাষা ও জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যই আল্লাহর কুদরত—এগুলো একে অপরকে বুঝতে সাহায্য করে। যেমন একটি রাষ্ট্রের সংবিধান থাকে, তেমনি প্রত্যেক ধর্মের জন্য ঐশী গ্রন্থই নির্দেশ—মানবিক নীতি, ন্যায় ও সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়। তবে দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, ধর্মের নামে যারা অতি চলন করে তারা নিজেরাই ধর্মকে কলঙ্কিত করে; সৎ ধার্মিকরা কখনো অন্য ধর্মের অনুসারীদের প্রতি অসহিষ্ণু বা হামলাকারী হতে পারেন না—এমন কর্মীরাই প্রকৃত ধর্মানুগ নয়।

ইসলাম শব্দের অর্থই শান্তি। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, অসত্য ও অকল্যাণ থেকে বিরত রাখা—এইই ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। ১৪০০ বছর আগে আরব সমাজ যখন অনাচার ও কুসংস্কারে ভর করে ছিল, তখন মহানবী (সা.) তাঁর দাওয়াত ও আদর্শের মাধ্যমে এক নতুন সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করেন। অশ্লীলতা ও কুসংস্কার থেকে আলোকিত জাতি গঠন করে তারা বিশ্বদরবারে অনুকরণীয় হয়ে ওঠে।

কিন্তু ধর্মীয় অনুশাসন থেকে বিচ্যুতির ফলে আজকের অনেক মুসলিম সমাজ আদর্শহীনতার ভেতর পড়েছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনাই ইসলামের আলোকবর্তিকা—এ চেতনা থেকে সরে গেলে উগ্রবাদ ও সহিংসতা জন্মায়, যা মানবিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বহু মুসলিম দেশ প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদে সমৃদ্ধ হলেও ইসলামি আদর্শের প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। কোরআন ও রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা অবজ্ঞা করলে ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবন দাগালো হয়।ইসলাম সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রদানে জোর দেয়; একজনের অপরাধের জন্য আরেকজনকে শাস্তি দেওয়া কখনও ইসলামে বৈধ নয়। ধর্মের নামে সহিংসতা ও অন্যায় করা হলে তা ইসলামের সুনাম কলুষিত করে, মুসলমানদের ও দেশের ভাবমূর্তিতেও ক্ষতি করে। যারাও এ ধরনের অপরাধে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে—এবং ইসলামের অপব্যাখ্যার জন্যও তাদের যথাযথ বিধান মোতাবেক দণ্ড হওয়া উচিত।