ঢাকায় আবারও ভূমিকম্প; ৩১ ঘণ্টায় চারবার কেঁপে উঠল দেশ

রাজধানীতে শনিবার সন্ধ্যায় দু’বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মাত্র দুই সেকেন্ডের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই দুটি কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার বাড্ডা এলাকা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩.৭। মাত্র এক সেকেন্ড পর ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে ৪.৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়।

এর আগে একইদিন সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ৩.৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। শুক্রবার সকালেও রাজধানীসহ সারাদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যেখানে শিশুসহ ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন। ভয় পেয়ে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়া ও ভবনে ফাটল ধরাসহ নানা ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ নিয়ে সাড়ে ৩১ ঘণ্টায় চারবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ও মাঝারি মাত্রার এই ধারাবাহিক ভূমিকম্প বড় ধরনের বিপদের পূর্বাভাস দিচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এমনিতেই ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ। বড় কম্পন হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজধানী, যেখানে বহু ভবনই বিল্ডিং কোড মেনে নির্মিত হয়নি।

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা

ভূতাত্ত্বিক তথ্য অনুযায়ী, সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পার্বত্য এলাকা এবং ভারতের মণিপুর–মিজোরাম অঞ্চলসহ একটি বিস্তৃত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে লকড অবস্থায় রয়েছে। এখানেই ইন্দো-বার্মা ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল। গত শত বছরে এ অঞ্চলে বড় কোনো ভূমিকম্প না হওয়ায় শক্তি সঞ্চিত আছে—যা যেকোনো সময় ৮–৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের।

ঢাকার আশপাশে যদি ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হয়, তাহলে রাজধানীর দুই লাখের মতো ভবন ধসে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে হতাহতের সংখ্যা হতে পারে কয়েক লাখ।

ভবনের জরুরি পরীক্ষা প্রয়োজন

বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ভবনগুলো জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা করা দরকার। রাজউক চাইলে বিনা খরচে ভবনমালিকদের কাঠামোগত নিরাপত্তা–সনদ দিতে পারে। বর্তমানে ঢাকা শহরে প্রায় ২১ লাখ ভবন রয়েছে, যার মধ্যে ফাটল ধরা ভবনের সংখ্যা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাহীন নগরায়ন, অপরিকল্পিত গ্যাস–বিদ্যুৎ লাইন এবং বিল্ডিং কোড অমান্যের কারণে বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকা “মৃত্যুকূপে” পরিণত হতে পারে।