যশোরের মনিরামপুরে চাঁদা না দেওয়ায় কৃষককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে এক কৃষককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার পাড়দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এই ঘটনা ঘটে।

আহত কৃষক আহাদ আলী দফাদার (৭০) শ্যামকুড় ইউনিয়নের পাড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা আহাদ আলীর ছেলে সবুজ আহম্মেদের কাছ থেকে চাঁদা না পেয়ে তার বাবার ওপর হামলা চালিয়েছে। সবুজ আহম্মেদ শ্যামকুড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (ইউপি) এবং যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যদিও তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবি ছিল না।

সবুজ আহম্মেদ জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে কাশীপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি (৪৫), পাড়দিয়া গ্রামের আনোয়ার পারভেজ (৩০)সহ কয়েকজন বিএনপি কর্মী তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় তারা তাঁর বাড়ির জানালা ভাঙচুর করে। এরপর ভয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।

সবুজের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে ওই ব্যক্তিরা তাঁর খোঁজে বাড়িতে গিয়ে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে মাছের খাবারের জন্য রাখা ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং তাঁর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। যাওয়ার সময় তাঁরা সাত লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

সন্ধ্যায় আহাদ আলী বাজারে যাওয়ার পথে শফিকুল ইসলাম ও আনোয়ার পারভেজের নেতৃত্বে ৮–৯ জন লোক তাঁকে বিদ্যালয় মাঠে ডেকে নিয়ে রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাতে অভিযুক্তরা আহাদের ভাই জালাল উদ্দিনকেও (৭২) মারধর করে। তিনি বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক অনুপ বসু জানান, আহাদ আলীর পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তবে বিএনপি পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শ্যামকুড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, আনোয়ার পারভেজ বিএনপির কর্মী হলেও অন্যরা আগে আওয়ামী লীগে ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁরা নিজেদের বিএনপি কর্মী দাবি করছেন, তবে দলের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নেই।

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, ঘটনার পেছনে চাঁদাবাজির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। সবুজ আহম্মেদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।