সন্তান আল্লাহর একজন বড় নেয়ামত। দুনিয়ার জীবনে সন্তান চোখের শীতলতা, দুর্বল অবস্থায় সহায়ক এবং বার্ধক্যকালে ভরসা হিসেবে কাজ করে। যদি সন্তানকে নেক ও ধার্মিকভাবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে সে তার বাবা-মার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে সওয়াবের কারণ হয়ে ওঠে। মৃত্যুর পরও নেক সন্তানের জন্য মানুষের সওয়াব অব্যাহত থাকে।

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির সন্তান মারা গেলে তার তিন প্রকার আমল ছাড়া অন্য সব আমল বন্ধ হয়ে যায়:
১. সদকায়ে জারিয়া (যেমন মসজিদ নির্মাণ, কূপ খনন ইত্যাদি, যার সওয়াব অব্যাহত থাকে)
২. ইলম বা জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়
৩. নেক সন্তান, যিনি তার জন্য নেক দোয়া করে। (সহিহ মুসলিম)

রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, কোনো ব্যক্তি জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করলে তাকে বলা হবে, “তোমার এত মর্যাদা কীভাবে হলো?” তখন বলা হবে, “তোমার সন্তানের দোয়া ও ইস্তেগফারের কারণে।” (সুনানে ইবনে মাজা, মুসনাদে আহমদ)

তাই সন্তানের জন্মের সময় বাবা-মায়ের উচিত আনন্দ প্রকাশ করা এবং আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে সিজদায় লুটিয়ে পড়া। নবীজি (সা.) খুশির সংবাদ পেলে সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন। (সুনানে আবু দাউদ)

ছেলে হোক বা মেয়ে, বাবা-মায়ের উচিত সন্তানের জন্মে খুশি হওয়া এবং আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা। কখনোই মেয়ের জন্মে হতাশ হওয়া সমীচীন নয়। মেয়ের কারণে মায়ের নিন্দা বা দোষারোপ করা জাহেলি যুগের কাফেরদের বৈশিষ্ট্য এবং ইসলাম এতে কড়া নিন্দা করেছে। কোরআনে এসেছে, যখন কাউকে কন্যা সন্তানের খবর দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং সে দুঃখে আত্মগোপন করে। (সুরা নাহল: ৬৮-৬৯)

মানুষ জানে না কোন সন্তানের মধ্যে তার জন্য কল্যাণ নিহিত। হতে পারে ছেলে চাইলেও মেয়ে তার জন্য বেশি কল্যাণদায়ক, অথবা মেয়ে চাইলেও ছেলে তার জন্য বেশি কল্যাণদায়ক। আল্লাহ তাআলা বলেন, অনেক সময় যা তোমরা অপছন্দ কর, তার মধ্যেই আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন। (সুরা নিসা: ১৯)

আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা অনুযায়ী কাউকে ছেলে দেন, কাউকে মেয়ে দেন, কাউকে উভয় দেন, আবার কাউকে সন্তানের দান না করেন। এটি আল্লাহর নিদর্শন ও ফয়সালার অংশ। আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব আল্লাহরই, তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। (সুরা শুরা: ৪৯-৫০)

বিশ্বজগতের সব কিছু আল্লাহর ইচ্ছায় পরিচালিত হয়। তিনি যাকে চান পুত্র ও কন্যা দেন, যাকে চান শুধু ছেলে বা শুধু মেয়ে দেন, আবার কাউকে সন্তানহীন রাখেন। এটি মানুষের মধ্যে পার্থক্য ও আল্লাহর নিদর্শনের অংশ।

কোনো নেয়ামত লাভের পর আল্লাহর প্রশংসা ও শোকর আদায় করলে আল্লাহ সেই নেয়ামতে বরকত দান করেন এবং বৃদ্ধি করেন। অকৃতজ্ঞ হলে আল্লাহ নেয়ামতও প্রত্যাহার করতে পারেন। কোরআনে আল্লাহ বলেন, “যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় কর, আমি তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেবো; আর যদি তোমরা অস্বীকার কর, তবে আমার আজাব কঠিন।” (সুরা ইব্রাহিম: ৭)