
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এই সময়কালে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তার নাম আলোচনায় আসে।
মন্ত্রীত্বকালে, বিশেষ করে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে, স্বাস্থ্য খাতের বাজেট ও প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালে কিছু হাসপাতালে প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামের দাম ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ৭২টি দরপত্রের মাধ্যমে ৩১৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার চিকিৎসা যন্ত্র কেনা হয়েছে। এর একটি বড় অংশ কয়েকটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হাতে গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি নিয়ম অমান্য করে সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।
দুর্নীতির অভিযোগে কিছু ঠিকাদার কালো তালিকাভুক্ত হলেও, তারা পুনরায় কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকের পুত্র রাহাত মালেক শুভ্রকেও কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সহযোগী হিসেবে ছিলেন সাবেক লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক মাজহারুল হক তপন ও অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম।
দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- টেকনোক্র্যাট লিমিটেড (মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু)
- জেনেসিস ট্রেডিং কোম্পানি (জাহের উদ্দিন সরকার)
- ওএমসি হেলথ কেয়ার
- জেএমআই সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইস লিমিটেড
- মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজ
- জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সাবেক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসেনের প্রতিষ্ঠান
দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় কিছু ব্যক্তি গ্রেপ্তার হলেও অধিকাংশ অভিযুক্ত এখনও সক্রিয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, “কোন প্রতিষ্ঠান কাজ পাবেন, তা মূলত রাহাত মালেক নির্ধারণ করতেন। তার পছন্দের কোম্পানির সক্ষমতা অনুযায়ী দরপত্রের শর্ত ঠিক হতো।”
এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচিতে অতিরিক্ত ব্যয় এবং অনিয়মও ধরা পড়েছে। ১৯টি বিষয়ভিত্তিক ৩১টি প্যাকেজে ৪২৬ জনের নামে মোট ২১ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রশিক্ষণ ও যাতায়াত ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মান ও কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
এই সব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্য খাতের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।