লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় বিষ প্রয়োগ করে এক কৃষকের ধানক্ষেত পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সফিয়ার রহমান (৫০) আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে তিনি জেলা প্রশাসক, কৃষি অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদনও জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, আদিতমারীর ভাদাই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আরাজী দেওডোবা গ্রামের মৃত আজগার আলীর ছেলে সফিয়ার রহমান প্রতিবেশী শাখাতুল হুদার (ভাদু মাস্টার) কাছ থেকে ৩৯ শতক জমি বর্গা নিয়ে আমন ধান চাষ করেন। একই জমি চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন গ্রামেরই রফিকুল ইসলাম অপি (৪০)। কিন্তু জমির মালিক সফিয়ার রহমানকে জমি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন রফিকুল। অভিযোগ রয়েছে, এর জেরে গত ১৮ অক্টোবর রাতে তিনি কীটনাশক স্প্রে করে সফিয়ারের ধানক্ষেত নষ্ট করে দেন।

স্থানীয়রা জানান, একইভাবে রফিকুল ইসলামের ভাই আজিজুল ইসলামের ধানক্ষেতেও বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। তবে কে বা কারা এই কাজ করেছে, তা নিশ্চিত নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, রফিকুলের বিরুদ্ধে পূর্বেও অন্যের ফসলের ক্ষতি করার অভিযোগ ছিল।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সফিয়ার রহমান বলেন, “মানুষের সঙ্গে শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু ফসলের ক্ষতি করে প্রতিশোধ নেওয়া অমানবিক। আমি একজন সাধারণ কৃষক— প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, যেন দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয়।”

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম অপি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার। আমাকে ফাঁসাতে কেউ পরিকল্পিতভাবে এমনটি করছে।”

আদিতমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে গম বা সরিষার বীজ দিয়ে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আকবর বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।