জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় জনমানবহীন চরে কোটি টাকার ব্রিজ নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় তা কোনো কাজে আসছে না চরাঞ্চলের মানুষের। এমন চিত্র দেখা গেছে উপজেলার আওনা ইউনিয়নের ঘুইষ্ণার চরে। গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পে গাফিলতির অভিযোগে এক বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে নির্মাণ সামগ্রী, মরিচা ধরছে রডে। কাজ শুরু হলেও বাস্তব অগ্রগতি না থাকায় এবং দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাতায়াতের উপযোগী সড়ক না থাকায় কুলপাল, কাজল গ্রাম, কুমারপাড়া, বারিকান্দিসহ পাশের কাজীপুর উপজেলার পানিবাড়ী, ৬ নম্বর চর ও লক্ষীপুর এলাকার মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার মানুষ নৌকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এতে কৃষিপণ্য বাজারজাত ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণেও মারাত্মক সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ‘গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আওনা ইউনিয়নের আওনা–ঘুইষ্ণার চর এলাকায় যমুনা নদীর শাখা অংশে ২ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ১১৪ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এবিএম ফয়সাল কনস্ট্রাকশন’। এর মধ্যে একটি ব্রিজের কাজ শেষ হলেও অপরটির নির্মাণকাজ চলমান অবস্থায় বন্ধ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, চরাঞ্চলে যাতায়াতের কোনো সড়ক না থাকা সত্ত্বেও সেখানে কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসছে না। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থ অপচয় ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

চরাঞ্চলের বাসিন্দা খবির উদ্দিন, আমেনা বেওয়া, শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বর্ষাকালে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায় এবং নৌকা ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় থাকে না। তাঁদের ভাষ্য, “যেখানে আগে রাস্তা দরকার, সেখানে তা না করে জনমানবহীন স্থানে ব্রিজ বানানো হয়েছে। আমাদের এই ব্রিজে পৌঁছাতে আরও দুইটি নদী নৌকায় পার হতে হয়।”

অন্যদিকে, ঘুইষ্ণাচর গুচ্ছগ্রাম (আশ্রয়ন প্রকল্প) সংলগ্ন নির্মাণাধীন আরেকটি গার্ডার ব্রিজের ছাদে রড বাঁধা অবস্থায় এক বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে রয়েছে। ঢালাইয়ের কোনো অগ্রগতি না থাকায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা রডে মরিচা ধরেছে, যা নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এবিএম ফয়সাল কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি মো. মকবুল হোসেন বলেন, দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় নির্মাণসামগ্রী পরিবহন ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শওকত জামিল বলেন, এটি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রকল্প। তৎকালীন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে স্থান নির্ধারণ করেছিলেন। বর্তমানে সেই প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, একটি ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে এবং অপর ব্রিজটির ক্ষেত্রেও সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।