পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে শুটার দিয়ে মুছাব্বির হত্যা, দুইজন চিহ্নিত

image 80

রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যার ঘটনায় ভাড়াটে শুটার ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে অন্তত দুই হামলাকারীর চেহারা শনাক্ত করা গেছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে তেজগাঁওয়ের পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় বৈঠক শেষে সহকর্মী আবু সুফিয়ান মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা হন মুছাব্বির। সিটি হোন্ডা সার্ভিস পয়েন্টসংলগ্ন গলির মুখে পৌঁছালে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

এ সময় মুছাব্বিরের ডান হাতের কনুইয়ের নিচে ও পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আবু সুফিয়ান মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।

ঘটনার পর কোমরে পিস্তল গুঁজে দুই হামলাকারী মূল সড়ক ধরে কারওয়ান বাজারের দিকে পালিয়ে যায়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই হত্যাকাণ্ডে পাঁচ থেকে ছয়জন জড়িত ছিল, যার মধ্যে দুজন সরাসরি গুলি চালায়।

পুলিশ আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, হামলার আগে ও পরে পরিকল্পিতভাবে রেকি করা হয় এবং নির্ধারিত পথ ধরেই খুনিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৭ দশমিক ৬৫ বোর পিস্তলের তিনটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবিসহ একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। রাজনৈতিক বিরোধ, চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আরও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্তে অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহসানউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সামনে দুর্বৃত্তরা পথরোধ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মুছাব্বিরকে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী জানান, রাজনৈতিক কারণে মুছাব্বির আগে থেকেই হুমকির মধ্যে ছিলেন। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তার কিছু শত্রু তৈরি হয়েছিল বলে তিনি স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর মতে, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এবং ভবিষ্যতে কাউন্সিলর নির্বাচনে আগ্রহ দেখানোই তার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুছাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরবের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কাওরান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে মুছাব্বির হত্যার বিচার দাবিতে আগামী শনিবার (১০ জানুয়ারি) সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল।