মুসাব্বির প্রায়ই স্ত্রীকে বলতেন, আমাকে মেরে ফেলতে পারে

image 77

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির নিহত হয়েছেন। জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে বলতেন, তাকে যেকোনো সময় মেরে ফেলা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে নিহত মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪–৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

সুরাইয়া বেগম জানান, “রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফোনে খবর পেলাম এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা বাসা থেকে হাসপাতালে গিয়েও তাকে আর জীবিত পাইনি। শুনেছি, গুলি করার সময়ই তিনি মারা গেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “বাসায় কখনো রাজনৈতিক আলোচনা হতো না, শুধুমাত্র পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা হতো। কিন্তু প্রায়ই বলতেন, আমার অনেক শত্রু হয়েছে, আমাকে যেকোনো সময় মেরে ফেলতে পারে, তোমরাও জানবে না।”

সুরাইয়া বেগম জানান, “সন্ধ্যায় তিনি আমাকে বলেছিলেন, তুমি কফি বানিয়ে দাও, আমি নামাজ পড়ে বের হবো। ওইটাই তার শেষ কথা। বাইরে গেলে প্রয়োজন ছাড়া বাসায় ফোনও দিতেন না।”

হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব দেখে জরুরি পদক্ষেপ নেবে। এই ধরনের ঘটনা আগে, এখনো এবং ভবিষ্যতেও ঘটছে। সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আমার মতো আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “২০ বছর ধরে মুসাব্বির পানির ব্যবসা করতেন। রাজনীতিতে আসার আগে সরাসরি ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন, পরে লোক দিয়ে দেখাশোনা করতেন। ব্যবসা নিয়ে কোনো ঝামেলা থাকার কথা নয়।”

গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে কারওয়ান বাজারের স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

সিসিটিভিতে দেখা যায়, দুটি বস্তা নিয়ে বসে থাকা দুর্বৃত্তরা মুসাব্বিরকে দেখামাত্র পিস্তল বের করে পেছন থেকে গুলি করেন। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর দৌড়ানোর চেষ্টা করলেও দুর্বৃত্তরা তার ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

মুসাব্বিরের সঙ্গে থাকা আবু সুফিয়ান মাসুদ নামের আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তিনি ঢাকার মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।