
আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয় করা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুক ক্রিয়েটররা ভিডিও, লেখা, মিমসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে জনপ্রিয়তা ও আয়—দুটোই অর্জন করছেন। তবে মনে রাখতে হবে, আয় করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই মনিটাইজেশন সক্রিয় রাখতে হবে।
কারণ, মনিটাইজেশন বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার আয়ও থেমে যাবে।
বর্তমানে মেটা (ফেসবুক) মনিটাইজেশন নীতিতে আগের চেয়ে অনেক কঠোর। ছোটখাটো কিছু ভুলের কারণেই অনেক ক্রিয়েটরের মনিটাইজেশন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। তাই সেই সাধারণ ভুলগুলো এবং সেগুলো এড়ানোর সহজ উপায়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
মনিটাইজেশন বন্ধ হওয়ার সাধারণ কারণগুলো
১. অন্যের কনটেন্ট কপি করা
অনুমতি ছাড়া কারও ভিডিও, ছবি বা লেখা ব্যবহার করলে মনিটাইজেশন সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। এ ছাড়া সেই কনটেন্টের রিচও কমিয়ে দেওয়া হয়।
পরামর্শ:
- যতটা সম্ভব নিজের তৈরি কনটেন্ট ব্যবহার করুন।
- অন্যের কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে অনুমতি নিন বা সঠিকভাবে ক্রেডিট দিন।
২. একই কনটেন্ট বারবার শেয়ার করা
একই ভিডিও বা পোস্ট বারবার দিলে তা স্প্যাম হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে দর্শকদের আগ্রহ কমে যায় এবং ফেসবুকও রিচ কমিয়ে দেয়।
পরামর্শ:
- একই আইডিয়াকে নতুনভাবে, ভিন্ন স্টাইলে বা নতুন ফরম্যাটে উপস্থাপন করুন।
- বারবার একই পোস্ট না দিয়ে সৃজনশীলতা দেখান।
৩. মূল নির্মাতার স্বীকৃতি না দেওয়া
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কনটেন্ট যদি অন্যত্র আগে থেকেই থাকে, তাহলে ফেসবুক সেখানে মূল নির্মাতার লিঙ্ক দেখাবে। ফলে দর্শক মূল উৎসে চলে যেতে পারে।
পরামর্শ:
- অন্যের কনটেন্ট ব্যবহার করলে অবশ্যই মূল ক্রিয়েটরের নাম বা লিঙ্ক দিন।
কখন অন্যের কনটেন্ট ব্যবহার করলেও মনিটাইজেশনে সমস্যা হবে না?
যদি আপনি কারও কনটেন্ট ব্যবহার করে তার সঙ্গে নিজের ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, মন্তব্য, ভয়েসওভার, রিভিউ বা গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদনা যোগ করেন, তবে সেটি ফেসবুক ‘ট্রান্সফরমেটিভ কনটেন্ট’ হিসেবে গ্রহণ করে। এতে মনিটাইজেশন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
ফেসবুক চায় ক্রিয়েটররা যেন কনটেন্টে নিজস্ব সৃজনশীলতা যোগ করে ভ্যালু তৈরি করেন।