লালমনিরহাটে বন্যায় পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ, তিস্তাপাড়ে শোকের নিস্তব্ধতা

image 121

উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে, এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তাপাড়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবের অভিযোগ এসেছে, ত্রাণ কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয় বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানাচ্ছেন।

রবিবার রাতের সময় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপরে চলে গেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফ্লাড বাইপাস খুলে পানি নিয়ন্ত্রণে আনে। সোমবার সকালে পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। রংপুর অঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানিয়েছেন, ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেওয়ায় বাংলাদেশ অংশে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই বন্যার আশঙ্কা এখনো রয়ে গেছে।

সোমবার সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি ৫২.১২ মিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমার মাত্র ৩ সেন্টিমিটার নিচে। স্থানীয়রা জানান, তিন দিনের ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। রবিবার সকাল থেকে ১২ ঘণ্টায় পানি ৮০ সেন্টিমিটার বেড়ে যায়। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা তীরবর্তী অংশ প্লাবিত হয়েছে।

বর্তমানে তিস্তা অববাহিকার পাঁচটি উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বন্যার পানির চাপে বিভিন্ন বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আদিতমারীর সোলেডি স্পার বাঁধ-২ এলাকায় সুরঙ্গ তৈরি হয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধ ধসের ঝুঁকি রয়েছে। হাতীবান্ধার দোয়ানী-গড্ডিমারী সড়ক প্লাবিত হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় চলছে। শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে আছে। গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি নিয়ে অনেকে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। কিছু মানুষ তাবু বা মাচা বানিয়ে রান্না করছেন। টিউবওয়েল, টয়লেট ও মাছের ঘের ডুবে গেছে, আমন ধানসহ সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাড়ির উঠানে কোমর পানি এবং রাতভর ঘুমানো সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তরা খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির জন্য সহায়তা আশা করছেন। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, উজানের ঢল ও স্থানীয় ভারি বৃষ্টির কারণে পানি বেড়েছিল। এখন বিপৎসীমার নিচে নেমেছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগবে। জেলা প্রশাসক রকিব হায়দার জানিয়েছেন, ত্রাণের কোনো অভাব নেই এবং সব বানভাসী পরিবার সহায়তার আওতায় থাকবে।

তবে তিস্তাপাড়ের মানুষ এখনো প্রকৃত সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং তাদের মুখে ফুটে উঠছে একটাই আহাজারি—“কবে নামবে এই পানি?”