
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো একটি বড় জাতীয় ক্রিপ্টোকারেন্সি আইন পাস হয়েছে। বহু বছর ধরে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ নীতির দাবি জানানো এই খাতের জন্য এটি একটি বড় অর্জন। এমনকি গত নির্বাচনে এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ পছন্দের প্রার্থীদের পেছনে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল।
নতুন আইনটি মূলত “স্টেবলকয়েন” নিয়ে। এটি এমন এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি যা মার্কিন ডলারের মতো নির্ভরযোগ্য সম্পদের সঙ্গে যুক্ত থাকে। বিলটি “জিনিয়াস অ্যাক্ট” নামে পরিচিত এবং এটি ট্রাম্প-সমর্থিত তিনটি ক্রিপ্টো বিলের একটি।
বৃহস্পতিবার হাউসে এটি পাস হওয়ার পর শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইনে স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সিনেট ইতিমধ্যে বিলটির অনুমোদন দিয়েছে।
এক সময় ট্রাম্প ক্রিপ্টোকে ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করলেও এখন তিনি এই খাতে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত। তার প্রতিষ্ঠান “World Liberty Financial”-এর মতো কোম্পানির সঙ্গেও তার সম্পর্ক রয়েছে।
আইনের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা বলছেন, এটি ক্রিপ্টো ইন্ডাস্ট্রির জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেবে এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমে যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সহায়তা করবে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, স্টেবলকয়েনগুলোকে অবশ্যই ১:১ অনুপাতে ডলার বা অন্যান্য কম ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের সঙ্গে সমর্থন করতে হবে। ট্রেডাররা এগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন ক্রিপ্টো টোকেনের মধ্যে দ্রুত লেনদেন করেন। এই কয়েনগুলোর জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বেড়েছে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এই আইন নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে। তারা আশঙ্কা করছেন, এতে স্টেবলকয়েনকে বৈধতা দিলেও, ভোক্তাদের সুরক্ষায় যথেষ্ট নজর দেওয়া হয়নি। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের মতো কার্যক্রম চালাতে পারবে, কিন্তু পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়া। কোনো কোম্পানি দেউলিয়া হলে গ্রাহকরা জটিল আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে যেতে পারেন।
তারা আরও অভিযোগ করেছেন, এই বিলের মাধ্যমে ট্রাম্পের পরিবার যেসব নিজস্ব ক্রিপ্টো কয়েন প্রচার করেছে, সেগুলোরও বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।
তবুও বিলটি উল্লেখযোগ্য ডেমোক্রেট এবং অধিকাংশ রিপাবলিকানের সমর্থন পেয়েছে।
ভোক্তা সুরক্ষা ও অধিকার সংগঠনের এক চিঠিতে বলা হয়, “এই বিল পাস হওয়া মানেই হবে সাধারণ মানুষ ভুলভাবে মনে করবে এসব অ্যাসেট নিরাপদ।”
এই সপ্তাহে কংগ্রেসের তিনটি বিল পাস হওয়ার কথা থাকলেও কিছু অপ্রত্যাশিত জটিলতার কারণে বিলম্ব ঘটে। বর্তমানে বাকি দুটি বিল হাউস পেরিয়ে সিনেটে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা চালুর সম্ভাবনা বন্ধ করবে এবং অন্যটি অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করবে।
এমন সময় বিলগুলো এগোচ্ছে যখন ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা যাচ্ছে—যার ফলে অবসরভাতা তহবিলে ক্রিপ্টো, স্বর্ণ এবং প্রাইভেট ইকুইটিতে বিনিয়োগ করা যাবে।
এদিকে, বিটকয়েনের মূল্য এই সপ্তাহে $১২০,০০০ ছাড়িয়েছে—যা একটি নতুন রেকর্ড।
তবে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক বিশ্লেষক টেরি হেইনস মনে করছেন, বাকি দুটি বিল হয়তো খুব একটা অগ্রগতি পাবে না।
তিনি বলেন, “এটাই সম্ভবত ক্রিপ্টো খাতের শেষ জয় – এবং একমাত্র। যখন সবচেয়ে সহজ অংশ স্টেবলকয়েন পাস হতে ৪-৫ বছর লাগে, তখন তা নিয়ে গর্ব করার খুব একটা কিছু থাকে না।”
ইফতেখার হোসাইন, প্রতিবেদক :