
রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। তিনি বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের করুণ অবস্থা এবং দলের শীর্ষ নেতাদের শাহাদাতের কথা স্মরণ করছিলেন।
বক্তব্য শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি এখানে দাঁড়িয়েছি সেই সমস্ত মায়েদের কথা বলতে, সেই সমস্ত পিতাদের কথা বলতে, সেই সমস্ত শিশুদের কথা বলতে, যাদের চোখের কোণায় আমি দীর্ঘ ১৫ বছরে পানি দেখিনি, রক্ত দেখেছি।” তিনি জানান, এই সময় অসংখ্য পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, শিশুরা পিতৃহীন হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বিশেষভাবে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের পরিবারের কাহিনী স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “আমি যখন আরমানের মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতাম, তিনি ধরা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করতেন—আমার আরমানের কোনো খবর আছে কি? সে বেঁচে আছে কি?” তার চোখের সামনে ছিল আরমানের দুই অবুঝ শিশু, যারা ফোনের রিং শুনে দৌড়ে এসে বলত, “দাদু, এটা কি আব্বুর ফোন? যদি আব্বুর ফোন হয়, আমাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দাও।” এই স্মৃতিচারণে ডা. শফিকুর রহমান ও উপস্থিত জনতাও অশ্রুসিক্ত ছিলেন।
তিনি শহীদ মীর কাসেম আলী এবং জামায়াতের ১১ শীর্ষ নেতার ত্যাগ ও শাহাদাতের কথাও স্মরণ করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তাদের একমাত্র অপরাধ ছিল আল্লাহর ওপর ঈমান রাখা। বিচারের নামে চরম অবিচার করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। ফাঁসির তক্তার সামনে দাঁড়িয়েও তারা কাঁদেননি, বরং ‘জান্নাতি হাসি’ মুখে নিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ ও হাদির স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, “তোমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা লড়ে যাব এবং দুনিয়ার মাটিতে তোমাদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করব, ইনশাআল্লাহ।”
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, তিনি কেবল জামায়াতের বিজয় নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের বিজয় চান। সভা শেষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফিরে আসা এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।