নৌকার অনুপস্থিতিতে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রাধান্য বাড়ছে।

image 323

ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার বাইরে জেতা কঠিন হয়ে গেছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে জোট রাজনীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। নির্বাচনী আইন সংশোধনের পর এখন জোটভুক্ত দলগুলো অন্য দলের প্রতীকে ভোটে অংশ নিতে পারবে না। এর ফলে, প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে জয়ী হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এই পরিবর্তন সাম্প্রতিক সময়ে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রাধান্য আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত দেয়।

বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন প্রস্তুতিতে সবচেয়ে তৎপর। বিএনপি প্রাথমিকভাবে প্রার্থী তালিকায় ৩৭টি আসন ফাঁকা রেখেছে, যাতে শরিক দলগুলোকে স্থান দেওয়া যায়। জামায়াত ইসলামী সাতটি দল নিয়ে জোট গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এনসিপি যদিও আলোচনায় রয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিক কোনো অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত নয়। জাতীয় পার্টি এখনো ভোটের মাঠে প্রবেশ করেনি।

২০০১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নির্বাচনের ইতিহাস দেখায়, জোটের প্রধান দলের জনপ্রিয় প্রতীকে ভোট দেওয়ায় ছোট শরিক দলগুলো সংসদে প্রতিনিধিত্ব পেত। কিন্তু নতুন বিধান অনুযায়ী, এই সুবিধা বন্ধ হওয়ায় ছোট দলগুলো নির্বাচনী ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের জন্য বিষয়টি প্রযোজ্য। প্রধান দলের নেতারা যদি শরিক দলের জন্য পুরোপুরি সমর্থন না দেন, তাহলে জয়ী হওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

এই পরিস্থিতিতে ধানের শীষ (বিএনপি) এবং দাঁড়িপাল্লা (জামায়াত) প্রতীকের প্রাধান্য বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, এনসিপি শাপলা কলি এবং জাতীয় পার্টি লাঙল প্রতীকে ভোটে অংশ নেবে। নির্বাচনী মাঠে জোটের মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—ছোট শরিকদের জয়ী করা এবং বড় দলের কর্মী-সমর্থকদের সম্পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি জোটের বড় দলের নেতৃত্ব ও সমর্থকরা শরিকদের যথাযথ সমর্থন না দেন, তাহলে ভবিষ্যৎ সংসদে কেবল দুই–তিনটি দলই প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে। অন্যদিকে, ছোট দলগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি নতুনভাবে আত্মপরিচয় পুনর্গঠনের সুযোগও তৈরি করছে।