“উন্নয়ন চাইলে শিক্ষকদের সম্মান দিতে হবে: ড. মঈন খান”

image 385

শিক্ষকদের অপমানের মাধ্যমে উন্নয়ন সম্ভব নয়: ড. আব্দুল মঈন খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, দেশে শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত আঘাত নয়, বরং শিক্ষার প্রতি অবমাননা। শিক্ষকদের সম্মান ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

ড. মঈন খান আরও বলেন, “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষক তার আত্মা। যে দেশ শিক্ষায় উন্নতি করতে পারেনি, সেখানে ভালো শিক্ষক ও ছাত্র তৈরি সম্ভব হয়নি; সেই দেশ কখনোই এগোতে পারেনি।”

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৫ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—শিক্ষা ধ্বংস করলে জাতিকেও দুর্বল করা যাবে। তিনি বলেন, একটি ফ্যাসিবাদী সরকার চায় মানুষ অন্ধ, নির্বাক ও অসচেতন হোক। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা হয়েছে।

ড. মঈন খান উদাহরণ হিসেবে জার্মানির ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি শিক্ষার শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সময়সীমা নয়, মূল লক্ষ্য ছিল যোগ্যতা অর্জন এবং সমাজকে আলোকিত করা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় এটি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিত, গবেষণা ও শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের মাধ্যমে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থার শক্তিও শিক্ষায় দেখান, সামরিক শক্তি নয়।

ড. মঈন খান সরকারের শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতা মাত্র ৫০০ টাকা ঘোষণা প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এই ধরণের উদাসীনতা শিক্ষার প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।

শিক্ষা সংস্কারের নামে কমিটি গঠন এবং সভা-সেমিনারের উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, মাঠ পর্যায়ে কোনো বাস্তব পরিবর্তন ঘটেনি। তাই শিক্ষাকে রাষ্ট্রের প্রথম অগ্রাধিকার দিতে হবে, শিক্ষককে সম্মান, ছাত্রকে মানসম্মত শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে তার হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে।