কেউ নব্য ফ্যাসিস্ট হতে চাইলে আমাদের আবার রাস্তায় নামতে হবে

image 218

নীচে পুরো লেখাটি সংক্ষিপ্ত, সাবলীল ও সংবাদধাঁচে পুনর্লিখন করা হলো—


বাংলাদেশে কেউ নব্য ফ্যাসিস্ট শক্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে জুলাই মাসের মতো আবারও রাস্তায় নামতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ছাত্রশিবির আয়োজিত ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাদিক কায়েম বলেন, “আমরা আজ শহীদদের আদর্শ ভুলে যাচ্ছি, ছাত্রসংগঠনগুলোতে বাড়ছে দাম্ভিকতা। তাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জুলাইয়ের স্পিরিট ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রতিবাদ–প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো আজ ফ্যাসিবাদের ভাষায় কথা বলছে, তাদের দোসররা এখনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আছে। খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের মতো ভুল করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।”

তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ছাত্রশিবির আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। বাংলাদেশে কেউ নব্য ফ্যাসিস্ট হতে চাইলে আমরা জুলাইয়ের মতো আবারও রাস্তায় নামব। মানুষের স্বাধীনতার লড়াই কিয়ামত পর্যন্ত চলবে ইনশাআল্লাহ। অন্তর্বর্তী সরকারকে বলতে চাই—খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার করে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি দিতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসরদের যেখানে পাওয়া যাবে, আইনের হাতে তুলে দিতে হবে—কারণ তারা রাজনৈতিক দল নয়, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।”

অনুষ্ঠানে তিনি জুলাই বিপ্লবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, “৩০ জুলাই দেশের সবচেয়ে বড় মিছিলটি হয়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাবির শিক্ষার্থীদের সাহসী ভূমিকার পরই দেশব্যাপী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।”

এ সময় তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে জুলাই বিপ্লবে শহীদ হন রাজশাহীর ছাত্রশিবির নেতা ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলী রায়হান।

এদিকে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ১৯৮২ সালের ১১ মার্চ রাবিতে আয়োজন করা নবীনবরণ অনুষ্ঠানে হামলায় শিবিরের চার সদস্য—সাব্বির, হামিদ, আইয়ুব ও জব্বার শহীদ হন। এরপর প্রায় সাড়ে চার দশক ক্যাম্পাসে নবীনবরণ আয়োজন করতে না পারলেও এবার বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

১৯৮২ সালের পর এত বড় পরিসরে রাবি ক্যাম্পাসের ভেতরে এটি প্রথম নবীনবরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।