কোন বয়সের পর কমতে শুরু করে শুক্রাণু—গবেষণায় যা জানা গেছে

image 219

সন্তান ধারণ বা প্রজননক্ষমতা নিয়ে আলোচনা উঠলে সাধারণত নারীদের বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথাই বেশি গুরুত্ব পায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুষের বয়সও প্রজননক্ষমতায় বড় প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে—৪৩ বছর বয়সের পর থেকেই দ্রুত কমতে শুরু করে শুক্রাণুর গুণগত মান এবং বেড়ে যায় ভবিষ্যৎ সন্তানের জিনগত ঝুঁকি।

ব্রিটেনের ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা ২৪ থেকে ৭৫ বছর বয়সী ৮১ জন সুস্থ পুরুষের শুক্রাণু বিশ্লেষণ করে দেখেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুক্রাণুর ডিএনএ-তে নতুন নতুন ‘মিউটেশন’ বা জিনগত পরিবর্তন যোগ হচ্ছে। গড়ে প্রতি বছর শুক্রাণুতে যুক্ত হয় ১.৬৭টি নতুন জিনগত পরিবর্তন।

গবেষকদের ভাষায়, ৪৩ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এই পরিবর্তনের হার হঠাৎ বেড়ে যায়—একেই বলা হচ্ছে শুক্রাণুর ‘টার্নিং পয়েন্ট’। এই পর্যায়ের পর শুক্রাণুর স্থিতিশীলতা কমে এবং কিছু ক্ষেত্রে এমন জিনগত ত্রুটি দেখা দেয়, যা ভবিষ্যৎ সন্তানের মধ্যে বিরল রোগ বা বিকাশজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে আছে—নুনান সিনড্রোম, অ্যাপার্ট সিনড্রোম ও কস্টেলো সিনড্রোম; যেগুলো হৃদযন্ত্র, হাড়ের গঠন ও স্নায়ু বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলে।

গবেষণা দল জানায়, পরিবর্তিত কিছু শুক্রাণু ‘স্বার্থপর শুক্রাণু’ হিসেবে আচরণ করে—অর্থাৎ তারা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং স্বাভাবিক শুক্রাণুগুলোকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দেয়। এতে ক্ষতিকর মিউটেশনের উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে।

যদিও গবেষণাটি ছোট পরিসরে হয়েছে, তবুও এটি প্রথমবারের মতো পুরুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে জিনগত ঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

  • যারা ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের সুস্থ জীবনযাপন বজায় রাখা,
  • ধূমপান, মদ্যপান ও মানসিক চাপ কমানো,
  • প্রয়োজনে আগেভাগে শুক্রাণু সংরক্ষণ করার কথা বিবেচনা করা উচিত।

তাদের মতে, একজন সুস্থ পুরুষের প্রতি মিলিলিটারে কমপক্ষে ১৫ মিলিয়ন এবং মোট ৩৯ মিলিয়নের বেশি শুক্রাণু থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি শুক্রাণুর গতি, আকার ও সামগ্রিক গুণগত মানও গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: আজকাল, ব্রিটিশ ফার্টিলিটি সোসাইটি, নোভা আইভিএফ ফার্টিলিটি.কম