গাজার শাসনভার হস্তান্তর করতে প্রস্তুত হামাস

image 248

গাজার শাসনভার একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত বলে বুধবার জানিয়েছে হামাস। একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং সম্পূর্ণভাবে পুনরায় চালুর ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এএফপিকে বলেন, গাজা উপত্যকার সব খাতে শাসনভার টেকনোক্র্যাটিক কমিটির কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটোকল ও নথিপত্র প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, ১৫ সদস্যের ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে গঠিত একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের দল। গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া চুক্তির আওতায় যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে এই কমিটি।

এনসিএজি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলি শাথের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির সদস্যরা মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু হলে গাজায় প্রবেশ করবেন।

হাজেম কাসেম বলেন, রাফাহ ক্রসিং উভয় দিকেই খুলে দিতে হবে এবং গাজা উপত্যকায় প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে—কোনো ধরনের ইসরায়েলি বাধা ছাড়াই।

রাফাহ ক্রসিং গাজার একমাত্র সীমান্তপথ, যা ইসরায়েলের দিকে যায় না। এটি মানুষ ও পণ্য পরিবহনের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এটি বন্ধ রয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে সীমিতভাবে খুললেও পূর্ণ পুনরায় চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

গত সপ্তাহে এনসিএজির প্রধান আলি শাথ ঘোষণা দেন, আগামী সপ্তাহে রাফাহ ক্রসিং উভয় দিকেই খুলে দেওয়া হবে। কাসেম বলেন, এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—চুক্তি অনুযায়ী নাগরিকদের চলাচল পূর্ণ স্বাধীনতায় পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা।

ইসরায়েল জানিয়েছে, শেষ জিম্মি রান গিভিলির মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তথাকথিত ‘সীমিত পুনরায় খোলা’র আওতায় কেবল পথচারীদের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। সোমবার ইসরায়েলি বাহিনী গিভিলির মরদেহ উদ্ধার করে এবং বুধবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মেইতারে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।

কাসেম বলেন, এসব পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির প্রতি হামাস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, চুক্তির প্রথম ধাপে হামাস প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করেছে এবং দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হতে প্রস্তুত।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে টেকনোক্র্যাটিক কমিটি গঠন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের কথা বলা হচ্ছে। যদিও হামাস গিভিলির মরদেহ ফেরত দেওয়াকে চুক্তির প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে, তবে তারা এখনো অস্ত্র সমর্পণ করেনি।

হামাস বারবার জানিয়েছে, নিরস্ত্রীকরণ তাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’। তবে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, কোনো ফিলিস্তিনি শাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনায় বসতে পারে। তবে নিরস্ত্রীকরণ বা ইসরায়েলি প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সূচি কিংবা কৌশল এখনো স্পষ্ট নয়।