কবরে গিয়েও অব্যাহত থাকে যেসব নেক আমল

image 60

মৃত্যু মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য সত্য। একটি হলো পার্থিব জীবন, অন্যটি পরলৌকিক—যা অনিবার্য। মানুষ দুনিয়ায় যে আমলগুলো করে যায়, আখিরাতে আল্লাহ তাআলা সেগুলোর প্রতিদান প্রদান করবেন।

আল্লাহ তাআলা জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য—কে কত উত্তম আমল করে তা যাচাই করতে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে—

“যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন—আমলের দিক থেকে তোমাদের মধ্যে কে সর্বাধিক উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল।”
(সুরা আল-মুলক : ০২)

নিয়ত যদি খাঁটি ও সঠিক হয়, তাহলে কিছু কিছু আমলের সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। হাদিসের আলোকে এমনই কয়েকটি আমলের সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো—

১. ইলম শিক্ষা দেওয়া
রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কাউকে ইলম শিক্ষা দেয়, সেই ইলম অনুযায়ী আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব তার আমলনামায়ও যুক্ত হতে থাকে—অথচ অন্যের সওয়াবে কোনো কমতি হয় না। (ইবনু মাজাহ : ২৪০)

২. নেক সন্তান রেখে যাওয়া
রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করার পরও চারটি আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকে—তার মধ্যে একটি হলো এমন নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। (মুসনাদ আহমাদ : ২২২৪৭)

৩. মাসজিদ নির্মাণ করা
মাসজিদ শুধু নামাজের স্থানই নয়, বরং দ্বীনি শিক্ষা ও কল্যাণমূলক কাজের কেন্দ্র। রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মাসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন। (মুসলিম : ১২১৮)

৪. কোরআন বিতরণ করা
মসজিদ, মাদরাসা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোরআন বিতরণ করলে যতদিন তা পাঠ করা হবে, ততদিন তার সওয়াব আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে। (মুসনাদুল বাজ্জার : ৭২৮৯)

৫. গাছ রোপণ করা
কোনো মুসলিম যদি গাছ রোপণ করে এবং মানুষ, পশু বা পাখি তা থেকে উপকৃত হয়—এমনকি কেউ চুরি করে খেলেও—সবকিছুই তার জন্য সদকাহ হিসেবে গণ্য হয়। (মুসলিম : ৪০৫০)

৬. অভাবগ্রস্তদের জন্য ঘর নির্মাণ করা
রাসুল (সা.) বলেন, মুমিন মৃত্যুবরণ করার পর তার সঙ্গে যেসব আমলের সওয়াব যুক্ত থাকে, তার মধ্যে অভাবগ্রস্তদের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়া অন্যতম। (ইবনু খুযাইমাহ : ২৪৯)

৭. পানির ব্যবস্থা করা
পানি পান করানো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল। এমনকি কোনো প্রাণীকে পানি পান করালেও তাতে সওয়াব রয়েছে। (বুখারি : ৬০০৯)

৮. ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষা করা
যে ব্যক্তি সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে, তার আমল কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকে এবং কবরের ফিতনা থেকেও সে নিরাপদ থাকে। (ইবনু মাজাহ : ২২৩৪)

৯. প্রবাহমান পানির ব্যবস্থা করা
ঝর্ণা, কূপ বা পানির ধারার ব্যবস্থা করলে তা সদকায়ে জারিয়ায় পরিণত হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি পানির ঝর্ণা তৈরি করল, তার জন্য জান্নাত রয়েছে। (বুখারি : ২৭৭৮)

১০. আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া
আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বান করা এবং নেক আমলের পথে ডাক দেওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ। হিদায়াতের পথে কাউকে আহ্বান করলে তার সমপরিমাণ সওয়াব আহ্বানকারীর আমলনামায় যুক্ত হয়। (মুসলিম : ৬৯৮০)

১১. কল্যাণকর বই বা কিতাব রচনা করা
যে লেখা মানুষের উপকারে আসে এবং সঠিক পথের দিশা দেয়, তার সওয়াব লেখকের জন্য চলমান থাকে। (তিরমিজি : ২৬৭০)

১২. সদকায়ে জারিয়া
সদকায়ে জারিয়া হলো এমন দান, যার উপকার দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকে—যেমন মাদরাসা, এতিমখানা, হাসপাতাল, পাঠাগার, রাস্তাঘাট নির্মাণ ইত্যাদি। রাসুল (সা.) বলেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়—তবে তিনটি আমল বন্ধ হয় না: সদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম এবং নেক সন্তান। (মুসলিম : ৪৩১০)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে খাঁটি নিয়তে উত্তম আমল করার এবং মানবকল্যাণে কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।