শেষ পর্যন্ত ভেঙেই গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট?

image 127

শেষ পর্যন্ত ভেঙেই গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট। জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আর জোটে থাকছে না। আজই আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।

জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে আসন বণ্টন নিয়ে জোটের শরিকদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা করে ইসলামী আন্দোলন। তবে তারা কমপক্ষে ৮০টি আসন দাবি করলে সমঝোতা ভেঙে যায়। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়—এই দাবি পূরণ না হলে জোটে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এই পরিস্থিতিতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনকে বাদ দিয়ে জোটের অন্য শরিকরা আলাদাভাবে বৈঠক করেন। খেলাফত মজলিসের একাংশের আমির মাওলানা মামুনুল হক চরমোনাই পীরের সঙ্গে মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও তাতে সফল হননি। পরে গভীর রাতে তিনি জামায়াতের এক শীর্ষ নেতাকে পুরো পরিস্থিতি অবহিত করেন।

জোটের একাধিক শরিক ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে—জোটে থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না। তবে চরমোনাই পীরের দল সরে গেলেও বাকি সব দল জোটে থাকছে বলে নিশ্চিত করেছেন শরিক দলের নেতারা। ফলে ১১ দলীয় জোট এখন ১০ দলীয় জোটে রূপ নিচ্ছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। এরপর গতকাল স্থগিত হওয়া সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

খেলাফত মজলিসের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জোটের অন্য শরিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে একমত হয়েছেন। কিছু আসনে নতুন করে বিন্যাস হতে পারে, তবে তাতে বড় কোনো সমস্যা হবে না।

জোটের নেতাদের দাবি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের চাপ বাড়তে থাকে। দলটি দাবি করে—তাদের ১৪৩টি আসনে বিজয়ের মতো সমর্থন রয়েছে এবং তারা এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের আসনও দাবি করে।

প্রথমে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪০টি আসন ছাড় দেওয়া হয়, পরে তা বাড়িয়ে ৪৫টিতে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ৬–৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা ৮০ আসনের দাবিতে অনড় থাকে। অন্য শরিকরা বোঝানোর চেষ্টা করলেও চরমোনাই পীরকে রাজি করানো সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, ৮০টি আসন ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না জামায়াতের। এতে সম্ভাবনাময় আসন হারানোর পাশাপাশি অন্য শরিকদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত আসনের দাবি উঠতে পারত। এই অবস্থায় মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে শেষ দফার সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।

ইতোমধ্যে ইসলামী আন্দোলনের ২৬৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব আসনে তারা হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, জোট ভাঙার খবর কয়েকদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। বুধবার বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৪টায় জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে প্রেস কনফারেন্স আহ্বান করা হলেও আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় চরমোনাই পীর সেখানে যোগ দিতে অপারগতা জানান। ফলে প্রেস কনফারেন্স স্থগিত হয়।

রাতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জুবায়ের জোটে সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করলেও তা কাটিয়ে ওঠার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তবে রাতভর চেষ্টা চালিয়েও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত আজ সকালে জোট ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।