ইসলামে পরিবার পরিকল্পনা ও সন্তানের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: ধারণা ও নির্দেশনা

image 528

মানুষের জীবনের সবচেয়ে কোমল এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো পরিবার। পরিবারে নতুন প্রাণের আগমন আল্লাহর রহমতের এক ঝলক, যা দুনিয়ার কোলাহলের মাঝেও একটি স্বর্গীয় প্রশান্তি বয়ে আনে।

কিন্তু আধুনিক যুগে এই আশীর্বাদও প্রশ্নের মুখোমুখি—সন্তান ক’জন হবে, তা নির্ধারণ করবে মানুষ নাকি আল্লাহ?

ইসলাম এই বিষয়ে কোনো একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত দেয় না। বরং শিক্ষা দেয় ‘পরিমিতি’র—যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়, তবে সীমাহীনও নয়। পরিবার পরিকল্পনা ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো ধরনের সন্তাননিরোধ নয়, বরং ‘দায়িত্ববোধের প্রকাশ’।

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা তোমাদের সন্তানদের দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা করো না; আমি তাদেরও রিজিক দিই, তোমাদেরও।” (সুরা আল-ইসরা, আয়াত ৩১)

এই আয়াতের মূল বার্তা স্পষ্ট—সন্তানের জন্মকে ভয় নয়, বরং বিশ্বাসের আলোকে দেখতে হবে। রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ, এবং তাঁর কৃপা ছাড়া কোনো সন্তান পৃথিবীতে আসতে পারে না। তবে এর মানে ইসলাম চিন্তাশীল পরিকল্পনার বিরোধী নয়। ইসলাম শেখায় প্রতিটি সিদ্ধান্ত হিকমাহ এবং ন্যায়বোধের ভিত্তিতে হতে হবে।

রাসুলুল্লাহ সা. এর যুগেই সাহাবিরা ‘আজল’ (সহবাসের সময় বীর্যপাত রোধ করে গর্ভধারণ বিলম্বিত করা) প্রথা অবলম্বন করতেন।

ইমাম মুসলিম রহ. বর্ণনা করেন, “আমরা রাসুলুল্লাহ সা. এর জীবদ্দশায় আজল করতাম, এবং তিনি তা নিষেধ করেননি।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪৪০)

এখানে রাসুল সা. এর অনুমোদন নির্দেশ করে যে, গর্ভধারণ বিলম্বিত করা বৈধ, যদি উদ্দেশ্য হয় ন্যায্য ও নৈতিক—যেমন স্ত্রীর শারীরিক দুর্বলতা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, কিংবা পূর্ববর্তী সন্তানদের সঠিক লালন–পালনের লক্ষ্য।