সরকারি চার ব্যাংকের আমানত ৫০ হাজার কোটি টাকা বাড়ল

image 6

সরকারি ব্যাংকগুলো নানা কৌশল অবলম্বন করে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশাল অংকের খেলাপির মধ্যেও বছরের শেষে চারটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে আমানত বেড়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। নগদ অর্থ আদায় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি, এবং রেমিট্যান্স আয় হয়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি অর্থের আদায়ও বেড়েছে। ব্যাংকাররা বলছেন, সুশাসন নিশ্চিত হলে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, খেলাপি অর্থ আদায়ে রাজনৈতিক সরকারকে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

পরিকল্পিত অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মেকানিজম থেকে ঋণের নামে অর্থ লোপাট করা হয়, যা বিশেষভাবে আওয়ামী সরকার পতনের পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে নতুন পর্ষদ থেমে না থেকে কাজ শুরু করেছে। গ্রাহকদের আস্থা ধরে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ বছরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ভাঙা মেরুদণ্ড ঠিক হয়ে যাচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চারটি ব্যাংকে গ্রাহক আমানত দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৪৩০ কোটি টাকায়। ক্যাশ রিকভারি হয়েছে ৪ হাজার ২৫৫ কোটি, আর প্রবাসী আয় থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংকভিত্তিক পরিসংখ্যান:

  • সোনালী ব্যাংক: আমানত বেড়েছে ১৪,৮৫৮ কোটি; খেলাপি ১৬,২৫০ কোটি; ক্যাশ রিকভারি ১,২০৩ কোটি; রেমিট্যান্স ১,৮৪২ কোটি; পুনঃতফসিল ৭৫০ কোটি।
  • অগ্রণী ব্যাংক: আমানত বেড়েছে ১৩,৮৩৬ কোটি; শ্রেণিকৃত ঋণ ৩৮.৬৫%; ক্যাশ রিকভারি ১,০৩৭ কোটি; রেমিট্যান্স ৩৩,৯৬১ কোটি।
  • জনতা ব্যাংক: সর্বোচ্চ আমানত সংগ্রহকারী ১৫,৭৪০ কোটি; পুনঃতফসিল ৪,৮০০ কোটি; ক্যাশ রিকভারি ৯১৫ কোটি; রেমিট্যান্স ২৭,৫৫৫ কোটি।
  • রূপালী ব্যাংক: আমানত বেড়েছে ৬,০০০ কোটি; খেলাপি ৩৬%; রেমিট্যান্স ১,৪৭৬ কোটি।

সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. শওকত আলী জানান, খেলাপি অর্থ আদায়ের হার বাড়ায় মার্চের মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ আশান্বিত পর্যায়ে নামবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্সুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহীদ বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোকে সবচেয়ে বেশি সংকটে রেখেছে হেভিওয়েট খেলাপিদের মাধ্যমে বেহাত হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকার ঘাটতি, যা রাজনৈতিক সরকারের সহযোগিতা ছাড়া উদ্ধার সম্ভব নয়।

আর্থিক খাতের দীর্ঘ পথচলা সরকারি ব্যাংকগুলো দেশের যে কোনো সংকট বা দুর্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বৃহৎ স্বার্থে ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা, স্বাধীন ভাবমূর্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।