শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের দাবি : দি টেলিগ্রাফ বিশ্লেষণ

image 416

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের জুলাই আন্দোলনে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে।

৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা, যিনি ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের খালা, বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। প্রসিকিউশন বলছে, প্রমাণ অনুযায়ী তিনি সরাসরি হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।

অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, শেখ হাসিনা বিক্ষোভকারীদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলতে ও আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, গত বছরের ওই দমন অভিযানে আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন, যা তার ১৫ বছরের শাসনের পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকেই অস্থিরতার সূচনা হয়, যা দ্রুত দেশব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে দেশ ত্যাগ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনে হামলা চালায়। ওইদিন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫২ জন নিহত হন—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম রক্তক্ষয়ী ঘটনা।

তার শাসনামলে বারবার ভোট কারচুপি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি শিশুরাও রক্ষা পায়নি।

প্রধান প্রসিকিউটর ময়নুল করিম জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফোন রেকর্ড, অডিও-ভিডিও ক্লিপ এবং প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ একাধিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পারব যে শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য। তার প্রত্যক্ষ নির্দেশেই এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।”

শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে গত জুলাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন। তার জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে, শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “তিনি এক হাজার ৪০০ মৃত্যুদণ্ডের উপযুক্ত অপরাধী। যেহেতু তা সম্ভব নয়, আমরা অন্তত একটি মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি।”

তাজুল আরও বলেন, “তার লক্ষ্য ছিল নিজে ও তার পরিবারের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা। তিনি এখন এক নির্মম অপরাধীতে পরিণত হয়েছেন এবং নিজের নিষ্ঠুরতার জন্য কোনো অনুশোচনা নেই।”