
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার প্রবাসী শামসুল করিমের মরদেহ মৃত্যুর ১৮ দিন পর দেশে ফিরেছে। জীবিকার স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমালেও শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দী হয়ে দেশে ফিরতে হলো তাকে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে সৌদি আরব থেকে একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা কফিন গ্রহণ করেন। সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।
শামসুল করিম পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের মৃত মনু মিয়ার দ্বিতীয় সন্তান। তিনি ২০১৪ সালে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় সৌদি আরবে যান এবং তায়েফের একটি খামারে কর্মরত ছিলেন।
গত ২২ মার্চ কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক জীবনে শামসুল করিম ২০১২ সালে মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর গ্রামের রিনা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের দুই ছেলে—মোহাম্মদ আরিফ (১৪) ও মো. আরাফাত (৬)। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক।
স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। পরে গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তার সম্বন্ধী শফিকুর রহমান জানান, দূতাবাসের সহায়তায় মরদেহ দেশে আনা হয় এবং নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।