চাঁদাবাজি আটককৃত ছিনিয়ে নিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ওপর হামলা

image 61

নরসিংদীতে চাঁদাবাজ আটককে ছিনিয়ে নিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ওপর হামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, নরসিংদী:

নরসিংদী সদর উপজেলার আরশীনগর মোড়ে অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের সময় দুজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। এ সময় আটককৃতদের ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সকালে আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে আটজন পুলিশ সদস্য বীরপুর এলাকায় একটি লাশ উদ্ধারের পরিদর্শন শেষে ফিরছিলেন। ফেরার পথে আরশীনগর মোড়ে তারা চাঁদাবাজির ঘটনাটি দেখে দুজনকে আটক করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও কয়েকজন চাঁদাবাজ পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আনোয়ার হোসেনের ঘাড়, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং আটক দুজনকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. ফরিদা গুলশানা কবির জানান, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে আনোয়ার হোসেনকে হাসপাতালে আনা হয়। তার ঘাড় ও পায়ে আঘাতজনিত রক্ত জমাট বাঁধে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

আহত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, “বীরপুর থেকে ফেরার পথে দেখি কয়েকজন গাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে। জিজ্ঞেস করতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে ৪০-৫০ জন জড়ো হয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম। পড়ে গেলে আমাকে লাথি, কিল ও ঘুষি মারে। পরে স্থানীয়রা আমাকে হাসপাতালে নেয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আরশীনগর মোড়ের পাশের সিএনজি স্টেশনের ইজারাদারের লোকজনই হামলার সঙ্গে জড়িত। হাইকোর্ট রাস্তায় চাঁদাবাজি নিষিদ্ধ করলেও তারা নিয়ম ভঙ্গ করছে।

তবে অভিযুক্ত ইজারাদার আলমগীর হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সরাসরি জানানো যেত। তিনি হয়তো রোদে মাথা ঘুরে পড়ে গেছেন, এতে আমার লোকজনের দায় নেই। পৌর প্রশাসক সাতটি স্থানে চাঁদা সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছেন, এর মধ্যে আরশীনগরও রয়েছে।”

এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, “আমি মিটিংয়ে আছি। বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি।”