ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথে প্রাণহানি, তীরে মরদেহ

Screenshot%202026 02 12%20201933 69965170a77d7

গত কয়েক দিনে ইতালির বিভিন্ন উপকূলে ভেসে আসা অন্তত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে গিয়ে এসব অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।

সিসিলি ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কালাব্রিয়ার সমুদ্রসৈকত থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, শীতকালীন ঝড়ের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে নৌকা ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটটি বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনপথগুলোর একটি। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও লিবিয়া ও তিউনিশিয়ার উপকূল থেকে অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী পাচারকারীদের প্রলোভনে অনিরাপদ নৌকায় যাত্রা করেন।

উদ্ধারকাজে যুক্ত সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, চলতি শীতে কয়েকশ অভিবাসনপ্রত্যাশী সাগরে ডুবে মারা গেছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন। কোস্টগার্ড ও বেসামরিক জাহাজও সমুদ্র থেকে মরদেহ উদ্ধার করছে।

মঙ্গলবার কালাব্রিয়ার ত্রোপিয়া উপকূলে কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি মরদেহ দেখতে পায়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়া ওই ব্যক্তির পরনে কমলা রঙের লাইফ জ্যাকেট ছিল। এছাড়া একজন নারীর মরদেহও উদ্ধার হয়েছে, যার সঙ্গেও কোনো পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু করেছে প্রসিকিউটররা।

এদিকে ইতালির ছোট দ্বীপ পান্তেলেরিয়া থেকেও আরও কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শিশু রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, শুধু জানুয়ারিতেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে কয়েকশ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অন্তত ১,৩৪০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। আর ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ সমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ।