
যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন (৫০) হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে আলমগীরের মাথায় গুলি করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি দুইজন অংশ নিয়েছিল। নিহত আলমগীর শংকরপুর ইসহাক সড়কের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে মোটরসাইকেলে চড়ে এসে পেছন দিক থেকে আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। আলমগীরও মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। তিনি শংকরপুর ইসহাক সড়কের সাবেক কাউন্সিলর শাহেদ হোসেন নয়নের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে হামলাকারীরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
নিহতের ভাই নান্নু হাসান মুছা জানিয়েছেন, আলমগীর রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতেও ছিলেন, তবে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এলাকার মানুষের উপকার করতেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তার ভাইকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। মুছা হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের স্বজনরা আরও জানিয়েছেন, আলমগীর হোসেন পেশায় ভূমি ব্যবসায়ী ছিলেন। এলাকায় তিনি সমাজসেবক ও দানবীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপরাধের অভিযোগ ছিল না। তবে দুর্বৃত্তরা ঢাকায় হাদির মতো স্টাইলে তার মৃত্যু ঘটিয়েছে। শহরের ব্যস্ত সড়কে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজনরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে এমন ‘টার্গেট কিলিং’ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আলমগীর হোসেনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে। ঘটনার গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে।