নতুন কর্মসূচি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল।

image 177

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তিন দিনের কর্মসূচির মধ্যে ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা প্রতিরোধ এবং জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, দাবি আদায় না হলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচির আল্টিমেটামও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুর ১টায় রাজধানীর পল্টনে আল-ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

এর আগে দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। এ আটটি দল হলো—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিষয়গুলো সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে আট দলের নেতৃবৃন্দ সর্বস্তরের জনশক্তিসহ দেশব্যাপী রাজপথে অবস্থান করবে। পাশাপাশি, ফ্যাসিবাদ-বিরোধী সকল শক্তিকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানানো হবে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) পাঁচ দফা দাবিতে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রোববার (১৬ নভেম্বর) বেলা ১১টায় আন্দোলনরত আট দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হবে এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় আল-ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়ে দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গত মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) পল্টনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা সতর্ক করেছেন, জুলাই সনদের আইনিভিত্তি ছাড়া দেশে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।

জামায়াতে ইসলামের আমির শফিকুর রহমান বলেন, যারা জুলাই বিপ্লব স্বীকার করবেন না, তাদের জন্য ২০২৬ সালের কোনো নির্বাচন হবে না। ২০২৬ সালের নির্বাচন দেখতে হলে আগে জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকা বাধ্যতামূলক।

দলগুলোর পাঁচটি দাবি হলো—
১. জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজন;
২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু করা;
৩. সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন;
৪. আওয়ামী লীগ সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা;
৫. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।