
সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ ও কলাম লেখক গোলাম মাওলা রনি বলেছেন— বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে আওয়ামী লীগ দূর থেকে মুচকি হাসছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখন ধর্মভিত্তিক রাজনীতির চূড়ান্ত রূপ দেখা যাচ্ছে। ধর্মকে হাতিয়ার বানিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল, নির্বাচনে জয়ী হওয়া, মানুষের মনে আবেগ ও বিশ্বাস তৈরি করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের প্রচেষ্টা চলছে।”
রনি আরও বলেন, “মামুনুল হকের খেলাফত মজলিস, চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন কিংবা জামায়াত— সবাই তাদের রাজনৈতিক প্রচারণা ও প্রোপাগান্ডায় ধর্মকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যদি এবার তারা ব্যর্থ হয়, তাহলে আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর টিকবে না। কারণ এখন যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা হলো— ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য ও তাদের বর্ণনা বনাম তাদের প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে বিএনপি।”
তার দাবি, “আওয়ামী লীগ যেহেতু বর্তমানে সরাসরি মাঠে নেই, তাই তারা দূর থেকে মুচকি হেসে বলছে— ‘দেখো, আমাদের সরিয়ে দিলে এখন কী অবস্থা হয়েছে।’ বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন ধর্মভিত্তিক দলগুলোর বক্তব্য শুনে বিরক্ত হচ্ছেন, যা আওয়ামী লীগের সময়ে এভাবে সামনে আসেনি। কারণ বিএনপির সঙ্গেও অতীতে এই দলগুলোর সখ্যতা ছিল এবং তারাও ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করেছে।”
রনি আরও বলেন, “বিএনপির ভেতরে ২০০১ সালে যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বীজ রোপণ করা হয়েছিল, আজ তা বিষবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। বিএনপি সেটি সামলাতে পারছে না। ফলে যদি নির্বাচন হয় এবং বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়, তবে এই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করা দলগুলোকে তারাই কঠোরভাবে সামাল দেবে।”