
বগুড়া-২ আসনে সহকারী প্রিসাইডিং নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক
বগুড়া প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এবং একাধিক মামলার আসামি এক আওয়ামী লীগ নেতাকে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মোকামতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আপেল মাহমুদকে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি পেশায় একজন স্বাস্থ্য সহকারী। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। এর একটি জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলার মামলা, অন্যটিও রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
স্থানীয় বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, আপেল মাহমুদ অতীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তাদের মতে, এমন একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিলে ভোটের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ও বিতর্কমুক্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ফৌজদারি মামলায় জড়িত ব্যক্তিদের এ ধরনের দায়িত্বশীল পদে নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। সে ক্ষেত্রে দুই মামলার আসামি এবং একটি রাজনৈতিক দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের কার্যনির্বাহী সদস্য কীভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পেলেন—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ সাধারণত সরকারি কর্মচারীদের তালিকা থেকে করা হয়। তবে কেউ রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হলে বা তার বিরুদ্ধে মামলা থাকলে বিষয়টি যাচাই করার সুযোগ থাকে।
এদিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মোকামতলা ও আশপাশের এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, বিতর্কিত ব্যক্তিকে নির্বাচনী দায়িত্বে রাখলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন ব্যাহত হতে পারে।
এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।