
জীবনধারণের জন্য খাদ্য অত্যাবশ্যক। মানুষের মৌলিক চাহিদার তালিকায় খাদ্যই থাকে প্রথম স্থানে। তাই গত পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলামও খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে অপচয়কে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না’ (সূরা আরাফ, আয়াত ৩১)। আরেক স্থানে তিনি বলেন, ‘ফল ধরলে তা খাও এবং ফসল কাটার দিন তার হক আদায় কর; আর অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না’ (সূরা আনআম, আয়াত ১৪১)। ইসলাম স্পষ্টভাবে খাদ্য অপচয়কে হারাম ঘোষণা করেছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) খাবার গ্রহণে কখনো অপচয় করেননি; বরং তিনি পাত্র ও আঙুল পর্যন্ত চেটে খেয়ে উম্মতের জন্য উত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমরা খাবার নষ্ট করলে আল্লাহর দান ও তাঁর আশীর্বাদের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
আজ খাদ্য অপচয় আমাদের দেশে এক বড় জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে অসংখ্য গরিব-দুঃখী মানুষ দুই বেলা খাবারের জন্য সংগ্রাম করছে। ক্ষুধায় তারা কষ্ট পাচ্ছে, দারিদ্র্য ও পুষ্টিহীনতা বাড়ছে, সমাজে তৈরি হচ্ছে বৈষম্য।
সুতরাং ধর্মীয়, মানবিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক—সব দিক থেকেই খাদ্য অপচয় রোধ করা অত্যন্ত জরুরি।