অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর মাংস কাটায় যুক্ত আরও ৭ জনের দেহে উপসর্গ শনাক্ত

image 65

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত গ্রামে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরু জবাইয়ের ঘটনায় আরও সাতজনের শরীরে উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর আগে একই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত চারজনের শরীরে উপসর্গ পাওয়া গিয়েছিল। সব মিলিয়ে শনিবার পর্যন্ত মোট ১১ জন অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন।

শুক্রবার রাতে গাইবান্ধা শহরের রাবেয়া ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা কিশামত গ্রামের সাতজনের শরীরে এ উপসর্গ ধরা পড়ে বলে জানান রংপুর মেডিকেল কলেজের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনজুরুল করিম। তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। তবে রাতেই খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কেউ হাসপাতালে ভর্তি হননি, ফলে আক্রান্তদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ডা. মনজুরুল করিম জানান, সাধারণত অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর মাংস খেলে বা সংস্পর্শে এলে এই রোগ দেখা দেয়। তবে যথাযথ চিকিৎসায় রোগটি সেরে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজার রহমান জানান, কয়েক দিন আগে গ্রামের লোকজন একটি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরু জবাই করেছিলেন। জবাইয়ের কাজে অংশ নেওয়া ১১ জনের মধ্যে প্রথমে চারজনের শরীরে ফোসকা পড়ে এবং মাংসে পচনের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। আক্রান্তদের হাতে, মুখে, নাকে ও চোখে এসব লক্ষণ স্পষ্ট হয়। আক্রান্তরা হলেন মোজা মিয়া (৫৬), মোজাফফর মিয়া (৪৫), শফিকুল ইসলাম (৫০) ও মাহবুর রহমান (৫৫)। তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মোজাম্মেল হক জানান, কিশামত গ্রামসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে গবাদিপশুকে অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়া হয়েছে।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন রকিবুজ্জামান বলেন, আক্রান্তদের ক্ষেত্রে মূলত চর্মরোগ হিসেবে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। তবে কারও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। এখন পর্যন্ত জেনারেল হাসপাতাল বা কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানথ্রাক্স রোগী ভর্তি হয়নি।