বিষাক্ত মদপানে রংপুরে আরও একজনের মৃত্যু, মোট মৃত ৮

image 123

রংপুরে নেশার উদ্দেশ্যে রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করে নতুন করে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে করে জেলায় এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া জয়নুল আবেদীন রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা যান।

মৃতদের মধ্যে বদরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ৪ জন, রংপুর সদর উপজেলার ৩ জন এবং মেট্রোপলিটন হাজিরহাট থানা এলাকার ১ জন রয়েছেন।

মৃতরা হলেন—আমিরুল ইসলাম, সোহেল মিয়া, জেন্দার আলী, রাশেদুল ইসলাম, মালেক মিয়া, জয়নুল আবেদীন, মানিক চন্দ্র রায় ও উলিয়ার রহমান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সদর উপজেলার শ্যামপুর হাট এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী জয়নুল আবেদীনের কাছ থেকে বিষাক্ত রেক্টিফাইড স্পিরিট কিনে সেবন করেন বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, একই এলাকার পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়াসহ আরও কয়েকজন।

ওই রাতেই বদরগঞ্জে আমিরুল ইসলাম ও সোহেল মিয়ার মৃত্যু হয়। একই সময়ে সদর উপজেলার সাহাপুর এলাকার সহিদার রহমানের ছেলে জেন্দার আলী মারা যান। পরবর্তীতে সদর উপজেলার রাশেদুল ইসলাম নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়। সোমবার বদরগঞ্জ উপজেলার মালেক মিয়া মারা যান। সবশেষ মঙ্গলবার রাতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে জয়নুল আবেদীনের মৃত্যু হয়।

এছাড়া হাজিরহাট থানা এলাকার মানিক চন্দ্র রায় রেক্টিফাইড স্পিরিট সেবনের ফলে মারা যান। এসব ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে এলাকাবাসী জানায়, সদর উপজেলার চন্দপাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের উলিয়ার রহমান ওই রাতে স্পিরিট সেবনের পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়। তবে এ ঘটনায় পুলিশের কাছে তথ্য গোপন রেখে মরদেহ দাফন করা হয়। ফলে এই মৃত্যুর তথ্য পুলিশের রেকর্ডে নেই।

বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার জানান, মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে গ্রেপ্তার জয়নুল আবেদীন কারাগারে মারা গেছেন। তার থানার আওতাধীন এলাকায় মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল গফুর এবং হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান স্পিরিট পানে মৃত্যুর ঘটনা ও সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রংপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন জানান, স্থানীয় এক শ্রেণির হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে মাদক ব্যবসায়ীরা এসব স্পিরিট প্রস্তুত করে থাকে। এ ঘটনায় নগরীর একটি হোমিওপ্যাথিক চেম্বারে গোয়েন্দা পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়েছে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।