আজহারীর পোস্টে উঠে এলো কুরআনের ভূমিকম্পের বর্ণনা

image 293

রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত ভূমিকম্পের ঘটনায় গভীর আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি আত্মসমালোচনার পাশাপাশি কুরআনে ভূমিকম্প বিষয়ে কী বলা হয়েছে, সেটিও তুলে ধরেন।

এদিকে ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইলে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে কম্পনটি রেকর্ড করে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৩। পেশগত সহকারী নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, এটি একটি ‘মাইনর ভূমিকম্প’, যার উৎপত্তিস্থল ছিল বাইপাইল।

গতকালের ভূমিকম্পকে ঘিরে আজহারীর প্রকাশিত লেখাটি তিনি এভাবে ভাগ করে তুলে ধরেন—

ভূমিকম্পের সময় বিল্ডিং দুলে ওঠায় তিনি কিছু সময় একেবারে স্তব্ধ হয়ে যান এবং আতঙ্কে বুক কাঁপতে থাকে। তার মতে, আরও কয়েকটি কম্পন হলে ঢাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত। তিনি বলেন, “দয়াময় আমাদের রক্ষা করেছেন। আল্লাহ বড়ই মেহেরবান।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন— অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং দুর্বল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কারণে এমন বিপদে মানুষের বাঁচার উপায় নেই আল্লাহর দয়া ছাড়া। এ ধরনের দুর্যোগ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কুরআনের আলোকে তিনি লিখেছেন— মানুষ দুর্বল সৃষ্টি; ভূমিকম্প মানুষের অহংকার ভেঙে দেয় এবং তার অক্ষমতা স্মরণ করিয়ে দেয়। পৃথিবীর যে কোনো শক্তি আল্লাহর সিদ্ধান্তের সামনে অসহায়— এ বিষয়টি বোঝাতেই এমন কম্পন আসে।

তিনি বলেন, অনেকেই জুমার দিনের নানা পরিকল্পনা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন, কিন্তু আর ফিরে আসেননি। তাই বেঁচে থাকা যে আল্লাহর বড় দয়া, তা মানুষ ভুলে যায়। মৃত্যুর সময় কখন, কীভাবে আসবে— তা কেউ জানে না, তাই প্রস্তুত থাকা জরুরি।

শেষে তিনি কুরআনের বর্ণনা উল্লেখ করেন— প্রকৃত ভূমিকম্প হবে সেই দিন, যখন পৃথিবী প্রবলভাবে কেঁপে উঠবে, পর্বতসমূহ ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলায় পরিণত হবে (সূরা আল ওয়াকিয়াহ, আয়াত ৪–৬)।