যুক্তরাষ্ট্র আজই ইরানে হামলা চালাতে পারে

image 16

ইরানে সম্ভাব্য হামলার অনুমোদন দিতে পারেন ট্রাম্প: মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের অবহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহান্তেই ইরানে সামরিক হামলার অনুমোদন দিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর নেতৃবৃন্দকে ইতিমধ্যেই এ তথ্য জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, হামলা রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) শুরু হতে পারে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র, যার ভিত্তিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এই হামলা পারমাণবিক অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির লক্ষ্য নয়। মূল লক্ষ্য ইরানের সরকারকে প্রভাবিত করা এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নেতৃত্ব ও সক্ষমতা ধ্বংস করা।” আইআরজিসি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর গঠিত একটি সশস্ত্র বাহিনী শাখা, যা বর্তমানে ইরানের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সূত্র জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, ইরানি নেতৃত্বের ওপর আক্রমণ সফল হলে জনগণ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবে এবং সরকার উৎখাত হতে পারে। এছাড়া, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে হামলার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ একটি নতুন সরকার গঠনে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

তবে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক দেশগুলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তুরস্কের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও আলোচনার একটি কাঠামো তৈরি হচ্ছে। এদিকে, এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ওই অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক সম্পদ জোরদার করেছি। আশা করি তারা (তেহরান) গ্রহণযোগ্য সমাধানে আলোচনা করবে। কেউ কেউ মনে করতে পারে হামলা হবে না, কেউ কেউ মনে করে হবে।”

সংক্ষেপে: ট্রাম্পের অনুমোদন পেলে ইরানে হামলা এই সপ্তাহান্তেই হতে পারে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কূটনৈতিক সমাধান রক্ষা করতে সক্রিয়।