ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা : রফিকুল ইসলাম খান

image 200

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছে, তাদেরই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। এই হত্যার ধারাবাহিকতার সূচনা হয়েছিল শহীদ আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর শাহাদাতের মধ্য দিয়ে। ওসমান হাদি সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ শিকার।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পৌর উন্মুক্ত মঞ্চে মরহুম শরিফ ওসমান হাদির (রহ.) মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা একজন দেশপ্রেমিক ও সময়ের সাহসী সন্তানকে হারিয়েছি। যাদের আত্মত্যাগ ও অবদানের কারণে আজ বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে এবং মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে।” তিনি দাবি করেন, ওসমান হাদীর প্রতিটি রক্তবিন্দু থেকে ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হবে।

হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে কিংবা উপদেষ্টার আসনে রয়েছেন, তারা হাদির মতো মানুষের আন্দোলনের ফলেই সেখানে পৌঁছেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আর কত ওসমান হাদির মতো বিপ্লবী সন্তান জাতিকে হারাতে হবে—এই প্রশ্ন আজ পুরো জাতির সামনে দাঁড়িয়ে আছে।”

আলোচনা সভা শেষে মরহুম ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

উপজেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল বারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, সাবেক সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ, উপজেলা প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম (মুত্তালিব), পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুল করিম, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আকন্দ, যুব বিভাগের সভাপতি আতাউর রহমানসহ স্থানীয় ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।