
চট্টগ্রাম নগরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইশ্যাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৭। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে নগরের ব্যস্ত এলাকা পাঁচলাইশ থানাধীন ফিনলে সাউথ সিটি মার্কেটের সামনে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, বুইশ্যার গ্রেপ্তার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে চলমান ধারাবাহিক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
র্যাব ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতের আঁধারে ফিনলে স্কয়ার মার্কেটের সামনে অবস্থান নেয় র্যাব-৭-এর একটি সিভিল টিম। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বুইশ্যা মোটরসাইকেলে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে গিয়ে তিনি আহত হন। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
র্যাব নিশ্চিত করেছে, অভিযানে তার কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে গোলাগুলির বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি, তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযানের সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনার দাবি করেছেন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলাম বুইশ্যা (৩৫) ভোলা জেলার দৌলতখান থানার ভাণ্ডারী বাড়ির মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন পশ্চিম ষোলশহর এলাকার বদিউল আলম গলিতে বসবাস করছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুইশ্যার বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে অন্তত ১৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও এলাকা কেন্দ্র করে বুইশ্যার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী অপরাধচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। এই চক্রের মাধ্যমে চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্য, মাদক কারবার এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বুইশ্যার নাম দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের প্রতীক ছিল।
এর আগে ২০২২ সালে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন বুইশ্যা। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ফের সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র গড়ে তুলে তিনি আরও সংগঠিতভাবে অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
গত ৯ অক্টোবর চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকায় যৌথ অভিযানে বুইশ্যা বাহিনীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই অভিযানে বিদেশি ও দেশীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদকদ্রব্য, নগদ অর্থ, ড্রোন, ওয়াকিটকি ও টাকা গণনার মেশিন উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন বেলাল, হৃদয় বড়ুয়া ও মো. আজাদ। তবে সে সময় মূল হোতা বুইশ্যাসহ তার একাধিক সহযোগী পালিয়ে যায়।
চলতি মাসের ৬ ডিসেম্বর চান্দগাঁও থানার জামাল কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বুইশ্যা বাহিনীর সদস্য ইমন হোসেন ওরফে আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ইমন দীর্ঘদিন ধরে বুইশ্যা বাহিনীর হয়ে অস্ত্র বহন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
র্যাব-৭ সূত্র জানায়, সর্বশেষ গ্রেপ্তারের ঘটনায় বুইশ্যার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি তার পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, “শহিদুল ইসলাম বুইশ্যার গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম নগরের অপরাধ দমনে বড় অগ্রগতি। তবে পুরো অপরাধ নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।”