বিক্ষোভের মধ্যেই মাদাগাস্কারে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ

image 155

বিক্ষোভের মধ্যেই মাদাগাস্কারে সেনা জেনারেল রুফিন ফর্চুনাত জাফিসাম্বোকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট অন্দ্রি রাজোয়েলিনা। বিদ্যুৎ ও পানির সংকটবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল দেশটিতে সরকার ভেঙে দেওয়ার পর সোমবার তিনি এই নিয়োগ ঘোষণা করেন।

প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা বলেন, “দেশ এখন এমন একজন প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন, যিনি আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবেন।” জাফিসাম্বো সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান ন্তসাইয়ের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

গত তিন সপ্তাহ ধরে সারাদেশে বিদ্যুৎ ও পানির সংকট নিয়ে চলমান বিক্ষোভ ক্রমেই সহিংস আকার ধারণ করেছে। গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত ঘোষণা করলেও আন্দোলন থামেনি। এখন বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন।

২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করছে, বিভিন্ন শহরে দোকানপাটে লুটপাট ও হামলার ঘটনাও ঘটেছে। রাজধানী আন্তানানারিভোতে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হলেও অস্থিরতা কমেনি।

‘জেন জি মাদাগাস্কার’ নামের তরুণ সংগঠনের ব্যানারে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। তাদের স্লোগান— “রাজোয়েলিনা আউট”, “আমরা গরিব, ক্ষুব্ধ ও অসুখী”, “মাদাগাস্কার আমাদের।”

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে রাজোয়েলিনা বলেন, “বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানির সংকটে জনগণের ক্ষোভ ও কষ্ট আমি বুঝতে পারছি। আমি তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছি এবং তাদের যন্ত্রণা অনুভব করছি।”

রাজোয়েলিনা ২০০৯ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন এবং ২০১৮ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন। ২০২৩ সালে তিনি পুনর্নির্বাচিত হলেও তৎকালীন নির্বাচনও বিক্ষোভ ও বিরোধীদের বর্জনে বিতর্কিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদাগাস্কারের সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ তরুণ প্রজন্মের গভীর হতাশার প্রতিফলন, যা আফ্রিকার বাইরের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। মরক্কোসহ কয়েকটি দেশে তরুণদের নেতৃত্বে সরকারি দুর্বলতার বিরুদ্ধে অনলাইন ও সড়ক— উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিবাদ বাড়ছে।