শ্বশুরবাড়িতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ, পরিবারের দাবি ‘হত্যা’

image 154

লক্ষ্মীপুরে বিয়ের আট মাসের মাথায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মো. রুবেল (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম চরমনসা গ্রামের মহব্বত আলী মুন্সিবাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার রাতের কোনো এক সময় তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের বোন নয়ন আক্তার অভিযোগ করেন, রুবেলের স্ত্রী তাকে পছন্দ করতেন না। এ নিয়ে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সোমবার রাতে মোবাইলফোনে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে নিহতের স্ত্রী রিয়া আক্তার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “রুবেলের সঙ্গে আমার কোনো ঝগড়া হয়নি। তিনি আমাদের ঘরেও আসেননি। আমাদের ফাঁসানোর জন্যই বাড়ির সামনে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।”

নিহত রুবেল ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের বেল্লাল মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতে রুবেল ও রিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। ঘটনার রাতে রুবেল নিজের বাড়িতে ছিলেন। পরে স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে যান। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির লোকজন গাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে নিহতের শ্বাশুড়ি পারভিন বেগমসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”