শহীদ আবরারের নামে ফেনী নদীর নামকরণের দাবি

image 141

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ছয় বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ভারতের সঙ্গে ফেনী নদীর পানি বণ্টন, বন্দর ও জ্বালানি চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার পর রাতে ছাত্রলীগের হাতে নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারান তিনি।

তার হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ফেনী জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা মনে করেন—ফেনী নদীর পানি নিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় আবরার যে সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন, তা ফেনীবাসীর হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। অনেকেই আবরারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেনী নদীর নাম পরিবর্তন করে ‘আবরার নদী’ রাখার দাবি তুলেছেন।

ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, “আবরার ফাহাদ ফেনী নদীর ন্যায্য হিস্যার দাবি তুলেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের ভারত তোষণ নীতির কারণেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ফেনীর মানুষ তাকে কখনো ভুলবে না।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের স্বার্থরক্ষার প্রতীক হিসেবে আবরার এক আদর্শ নাম। তাই আমরা দাবি করছি—ফেনী নদীর নাম পরিবর্তন করে ‘আবরার নদী’ রাখা হোক।”

ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুর রহীম বলেন, “ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই আবরারকে হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগ সবসময় এমন কণ্ঠকে দমনের চেষ্টা করেছে।”

হেফাজতে ইসলামের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা ওমর ফারুক বলেন, “আবরার বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, এজন্যই তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। আমাদের দেশকে প্রভাবমুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সংগঠক আবদুল্লাহ আল যোবায়ের বলেন, “আবরার হত্যাকাণ্ড কোনো একক দলের সিদ্ধান্ত ছিল না; এটি ভারতের প্রভাবের ফল। তার মৃত্যু ছাত্রসমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছে, আর সেই চেতনা আজও বেঁচে আছে।”

এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও “You Failed to Kill Abrar Fahad” শিরোনামে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ফেসবুকে ভারতবিরোধী পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন আবরার ফাহাদ।