
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে নতুন আমির নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার আগেই নতুন আমির নির্বাচিত হবেন।
জামায়াতের গঠনতন্ত্রে ‘আমির’কে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পদধারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ দলের নির্বাহী পদগুলোতে দায়িত্ব বণ্টন করেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, দলটির সকল কেন্দ্রীয় সংগঠনের মেয়াদ ৩ বছর। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আমিরে জামায়াত, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও নির্বাহী পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
তিনি বলেন, “আমাদের ৫ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন রয়েছে। তারা অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে আমিরে জামায়াত ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার নির্বাচন আয়োজন করতে চাইছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে শপথ ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হবে।”
আমিরে জামায়াত নির্বাচনের পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক মাস আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়। নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা গোপন ভোটে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে। এরপর সারা দেশের পুরুষ ও নারী রুকনদের কাছে এই তিনজনের নাম পাঠানো হয়। রুকনরা এই তিনজনের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে ভোট দিতে পারেন। তবে তারা চাইলে অন্য কোনো প্রার্থীকেও ভোট দিতে পারেন। সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ব্যক্তি আমিরে জামায়াত নির্বাচিত হন।
বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে পরবর্তী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। জুবায়ের জানান, “শিডিউল ঘোষণার পর রুকনদের জানানো হবে শূরা সদস্যরা কাদের মনোনীত করেছেন। তার আগে এটি প্রকাশ করা হয় না।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের ইতিহাসে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এই নির্বাচন নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় নির্বাচন প্রক্রিয়া কোনো বাধা ছাড়াই সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন তারা।