গাজায় আবারও ত্রাণ পাঠানোর ঘোষণা ফ্লোটিলা সংগঠনের

image 39
ChatGPT said:

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সর্বশেষ জাহাজ ‘ম্যারিনেট’ আটক করেছে ইসরাইলি বাহিনী। পোল্যান্ডের পতাকাবাহী নৌযানটিতে ছিলেন ছয়জন ক্রু।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ভোরে সরাসরি সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজার উপকূল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে চলছিল জাহাজটি। এসময় ইসরাইলি কমান্ডোরা নৌযানটিতে উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ফ্লোটিলার একটি বাদে সবগুলো জাহাজ আটক করার দাবি করে ইসরাইল।

তবে এ অবস্থার মধ্যেও থেমে নেই ফ্লোটিলার উদ্যোগ। ফিলিস্তিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর জোট ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) নতুন করে গাজায় ত্রাণবাহী বহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

সংগঠনটির বিবৃতিতে জানানো হয়, ইতালি ও ফ্রান্সের পতাকাবাহী দুটি নৌযান ইতোমধ্যেই ২৫ সেপ্টেম্বর ইতালির ওৎরান্তো বন্দর থেকে গাজার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর আরও ৯টি নৌযান যাত্রা শুরু করে। শিগগিরই এগুলো একত্র হয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বহর হিসেবে গাজার দিকে অগ্রসর হবে।

এফএফসি’র তথ্য অনুযায়ী, নতুন বহরের ১১টি নৌযানে প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী ও ক্রু রয়েছেন।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট স্পেন থেকে খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রীতে পূর্ণ ৫৫টি জাহাজ নিয়ে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা গাজায় রওনা হয়েছিল। কিন্তু উপকূলে পৌঁছানোর আগেই ইসরাইলি নৌবাহিনী সবগুলো জাহাজ ও আরোহীদের আটক করে নিজেদের বন্দরে নিয়ে যায়।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা হলো চারটি সংগঠনের জোট— ফ্রিডম ফ্লোটিলা ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা, মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা এবং সুমুদ নুসানতারা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইল গাজায় গণহত্যা শুরুর পর এ পর্যন্ত যত ত্রাণ বহর পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে এ ফ্লোটিলার বহর ছিল সবচেয়ে বড়।

এই উদ্যোগে অংশ নেন বিশ্বের ৪৪টি দেশের ৫০০ নাগরিক, যাদের মধ্যে ছিলেন সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা ও বাংলাদেশের আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।

গাজামুখী ত্রাণবাহী জাহাজগুলো আটক করার পর ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। তুরস্ক, ইতালি, স্পেন, জার্মানির বার্লিন, গ্রিস ও আর্জেন্টিনায় বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন বহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়ে আবারও আলোচনায় এলো ফ্লোটিলা।