
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বরিশালের সাতটি আসনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি। এসব আসনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রভাব বেড়েছে। প্রার্থী নির্বাচনে ভুল কিংবা ভোটারদের আস্থা ফেরাতে ব্যর্থ হলে বিএনপির জন্য জয় পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে—দলের ভেতরেও এমন আশঙ্কা রয়েছে।
বরিশাল-২: আলোচনায় গোলাম ফারুক অভি
উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন সরফুদ্দিন সান্টু, দুলাল হোসেন, রওনাকুল ইসলাম টিপু ও সাইফ মাহমুদ জুয়েল। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে আলোচনায় আছেন সাবেক এমপি গোলাম ফারুক অভি। একসময় ছাত্রদল নেতা হলেও তিনি জেপি (মঞ্জু) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মডেল তিন্নি হত্যা মামলায় আসামি হয়ে দেশ ছাড়লেও সম্প্রতি আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। অভি জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন। এলাকাবাসীর মতে, এমপি থাকাকালীন সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও কানাডায় থেকেও এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে তার প্রতি এখনও প্রবল সমর্থন রয়েছে। ফলে তিনি প্রার্থী হলে বিএনপির জন্য আসনটি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বরিশাল-৫: ফয়জুল করীমের চ্যালেঞ্জ
বরিশাল সদর আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে এবার এখানে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন পাঁচবারের এমপি ও সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার, কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মো. রহমতউল্লাহ এবং মহানগর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক। অতীতে এখানে ধানের শীষ সবসময় আওয়ামী লীগকে বড় ব্যবধানে হারাতো। তবে ফয়জুল করীম আগের সিটি নির্বাচনে একাই ৩৫ হাজার ভোট পান, যেখানে বিএনপির ভোটাররা কেন্দ্রে যাননি। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন একজোট হলে বিএনপির জন্য জয় পাওয়া আগের মতো সহজ হবে না।
পিরোজপুর: সাঈদীর পুত্র ও রুস্তুম আলী
পিরোজপুর-১ ও ২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মরহুম আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই ছেলে—মাসুদ সাঈদী ও শামিম সাঈদী। মাসুদ সাঈদী আগে উপজেলা চেয়ারম্যানও ছিলেন। পিরোজপুর-৩ আসনে আলোচনায় রয়েছেন দলবদল করা রুস্তুম আলী ফরাজী, যিনি এবার ইসলামী আন্দোলনের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন নজরুল ইসলাম খান, আলমগীর হোসেন, এলিজা জামান, ভিপি মাহমুদসহ আরও অনেকে। তবে জেলার তিনটি আসনের কোনোটিতেই নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিএনপি কখনো জয় পায়নি। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমতের দাবি—এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। সাঈদীর সন্তানরা বাবার মতো প্রভাবশালী নন এবং রুস্তুম আলী ফরাজী বারবার দল বদলে জনসমর্থন হারিয়েছেন। সঠিক প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারলে বিএনপি এবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
পটুয়াখালী: মাসুদ ও মোস্তাফিজ
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) ও পটুয়াখালী-২ আসনে কখনোই শক্ত অবস্থানে ছিল না বিএনপি। এবারও জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বাউফলে জামায়াতের প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অপরদিকে কলাপাড়া-রাঙ্গাবালীতে বিএনপির সাবেক নেতা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন। গরিবের ডাক্তার হিসেবে এলাকায় পরিচিত তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান টোটন জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ভোটাররা বিএনপির পক্ষে আছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।