নিখোঁজের ৩ দিন পর শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

image 126

জয়পুরহাট প্রতিনধি: জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শালবন গ্রামে নিখোঁজের দুই দিন পর এক শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর নাম তাসনিয়া খাতুন (১০)। গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে প্রতিবেশীর বাড়ির গোয়ালঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত লোকজন প্রতিবেশীর বাড়ি ঘেরাও করে দুই নারীকে অবরুদ্ধ রাখেন। তাঁরা অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা চালান। রাত সাড়ে নয়টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সেখান থেকে দুই নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশে পচন ধরায় চেহারা অনেকটা বিকৃত হয়ে গেছে। শিশুর গলায় রক্তের দাগ আছে। গলা কেটে, নাকি শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যার আগে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় তাসনিয়া। পরিবারের লোকজন আশপাশের পুকুর ও ঝোপে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাননি। বৃহস্পতিবার শিশুটির বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। গতকাল সন্ধ্যার পর প্রতিবেশী একরামুল হোসেনের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে গ্রামের লোকজন সেখানে যান। একরামুল তখন দ্রুত বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

পরে গোয়ালঘরে একটি বস্তায় তাসনিয়ার লাশ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত লোকজন একরামুলের বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন এবং পুলিশকে খবর দেন। রাত আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

প্রতিবেশী কয়েকজনের ভাষ্য, তাসনিয়ার শরীরে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার ছিল। মুক্তিপণ ও স্বর্ণালংকারের জন্য একরামুল ও তাঁর সহযোগীরা শিশুটিকে হত্যা করেছেন বলে তাঁদের ধারণা।

জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেন, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে শিশুটি খুন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অন্য কারণও থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।