বিদেশে পাচার হওয়া ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান

image 55

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচটি দেশের সাতটি শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব এই তথ্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছেন। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও আহসান হাবিব প্রধান উপদেষ্টার কাছে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নয়টি দেশে ৩৫২টি বিদেশি পাসপোর্টের খোঁজ পাওয়া গেছে। এসব পাসপোর্ট কিছু বাংলাদেশি টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করেছেন। দেশগুলো হলো—অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডমেনিকা, গ্রেনেডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, মাল্টা, সেন্ট লুসিয়া এবং তুরস্ক।

এছাড়া, অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে গড়ে তোলা ৩৪৬টি সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এটি কেবল অনুসন্ধানের আংশিক চিত্র। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ চলমান রয়েছে।

সিআইসির মহাপরিচালক জানান, শেখ হাসিনার আমলে কিছু ব্যক্তি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডাটাবেজ থেকে তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন, তবে সিআইসি ইতিমধ্যেই সেই তথ্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের সম্পদ লুটপাটকে ভয়াবহ দেশদ্রোহ হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি জোর দিয়েছেন, অর্থ পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনা এবং সব সংস্থার সমন্বয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কেলেঙ্কারি করতে না পারে।

তিনি আরও নির্দেশ দিয়েছেন, অনুসন্ধান আরও বিস্তৃতভাবে চালানো হবে এবং সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।